বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ঐতিহাসিক ছবি এবং তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারণসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা। ছবিটিতে মূল ব্যক্তিত্ব, ঘটনা এবং আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভূমিকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম ‘ অপারেশন সার্চলাইট’ -এর (প্রত্যক্ষ কারণ) মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা হয়। মূলত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতিই এই মুক্তিযুদ্ধের মূল কারণ। মুক্তিযুদ্ধের পরোক্ষ (প্রধান) কারণসমূহ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের (মুক্তিযুদ্ধের) পেছনে বহু বছরের রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক , সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য জড়িত ছিল। ১. ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনা: ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবির মধ্য দিয়ে বাঙালিরা বুঝেছিল যে পশ্চিম পাকিস্তানিরা তাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চায়। ২. রাজনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বেশি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার, সেনাবাহিনী ও সিভিল সার্ভিসে বাঙালিদের...
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কী লাভ হয়েছিল? ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কৌশলগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভসমূহ (দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস)। ভূমিকা : ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সরাসরি অংশগ্রহণ ও কূটনৈতিক সমর্থনের পেছনে যেমন মানবিক দিক ছিল, তেমনি ভারতের নিজস্ব কিছু জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থও জড়িত ছিল। ১. দ্বিমুখী সামরিক হুমকির অবসান : স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম দুই সীমান্তেই শত্রুভাবাপন্ন পাকিস্তান অবস্থান করছিল, যা ভারতের জন্য একটি ‘ দ্বিমুখী সামরিক হুমকি ’ (Two-Front Threat) ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ফলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শত্রুমুক্ত হয় এবং কৌশলগত চাপ অনেকাংশে কমে যায়। ২. শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধান : মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এতে ভারতের অর্থব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যায় এবং ভারতের ওপর থেকে অর্থনৈতিক বোঝা দূর হয়। ৩. উত্তর-পূর্ব ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা রোধ : ...
.png)