ভারত সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ১৯৭১ সালের ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ। এই চুক্তি তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছিল। ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদি ‘ ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’ ছিল স্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। 📗 ভারত-সোভিয়েত চুক্তির তাৎপর্য তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী: ১. নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা: আলোচ্য সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি অক্ষ গড়ে উঠেছিল। এই অবস্থায় এই চুক্তিটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করে। চুক্তির নবম ধারা (Clause 9) অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে উভয় দেশ সামরিক আলোচনা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি দেয়। ২. কূটনৈতিক ভারসাম্য : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চিন-পাকিস্তানের গড়ে ওঠা অক্ষের বির...
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ঐতিহাসিক ছবি এবং তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারণসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা। ছবিটিতে মূল ব্যক্তিত্ব, ঘটনা এবং আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভূমিকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম ‘ অপারেশন সার্চলাইট’ -এর (প্রত্যক্ষ কারণ) মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা হয়। মূলত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতিই এই মুক্তিযুদ্ধের মূল কারণ। মুক্তিযুদ্ধের পরোক্ষ (প্রধান) কারণসমূহ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের (মুক্তিযুদ্ধের) পেছনে বহু বছরের রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক , সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য জড়িত ছিল। ১. ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনা: ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবির মধ্য দিয়ে বাঙালিরা বুঝেছিল যে পশ্চিম পাকিস্তানিরা তাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চায়। ২. রাজনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বেশি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার, সেনাবাহিনী ও সিভিল সার্ভিসে বাঙালিদের...
.png)