সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভারতীয় গণপরিষদ কী? গণপরিষদের উদ্দেশ্য কী ছিল?

ভারতীয় গণপরিষদ ও তার উদ্দেশ্য দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস: ভারতীয় গণপরিষদের গঠন, পটভূমি ও মূল উদ্দেশ্য। ভূমিকা : ভারতীয় গণপরিষদ ভারতীয় গণপরিষদ (Constituent Assembly of India) হলো স্বাধীন ভারতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিশেষ সার্বভৌম প্রতিনিধি সভা । ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission)-এর প্রস্তাব অনুযায়ী পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই গণপরিষদ গঠিত হয়। গণপরিষদের গঠন ও পটভূমি গঠনকাল: ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে একটি পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিষদ গঠিত  হয় এবং ৯ ডিসেম্বর  গণপরিষদের  প্রথম অধিবেশন বসে। নেতৃত্ব: গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন ডা. সচ্চিদানন্দ সিনহা এবং পরবর্তীতে স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ । সংবিধানের খসড়া কমিটির (Drafting Committee) সভাপতি ছিলেন ডা. বি. আর. আম্বেদকর । সদস্য সংখ্যা: শুরুতে গণপরিষদের  মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯ (প্রাদেশিক আইনসভার মাধ্যমে নির্বাচিত ও দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি) জন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর  এই  সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৯৯ -এ। গণপরিষদের প্রধান উদ্দেশ্যস...

অপারেশন পাইথন (Operation Python) কী? কারণ, ঘটনাবলী ও গুরুত্ব

অপারেশন পাইথন (Operation Python) ১৯৭১ সালে করাচি বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘অপারেশন পাইথন’-এর একটি প্রতীকী দৃশ্য। ভূমিকা : অপারেশন পাইথন অপারেশন পাইথন (Operation Python) হলো ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালীন ৮-৯ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে করাচি বন্দরে পরিচালিত ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত সফল ও বিধ্বংসী দ্বিতীয় নৌ-অভিযান । এর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশের) মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করা এবং পাকিস্তানের যুদ্ধক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। পটভূমি ও প্রেক্ষাপট : ১৯৭১ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ এবং অপারেশন ট্রাইডেন্ট চালানোর ধারাবাহিকতায় এই অপারেশন (Operation Python) চালানো হয়। ✔ ট্রাইডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ: ১৯৭১ সালের ৪-৫ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে ভারতীয় নৌবাহিনী করাচি নৌবন্দরে ‘ অপারেশন ট্রাইডেন্ট ’ চালিয়ে একাধিক পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে। সেই হামলার ধারাবাহিকতায় জ্বালানি আধার ও বাকি অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতেই অপারেশন পাইথন চালানো হয়। 📌 আরও জেনে রাখো : অপারেশন ট্রাইডেন্ট কী? | উত্তর এখানে ➠ ✔ সতর্কতা এড়িয়ে হামলা: ট্রাইডেন্টের সাফল্যের পর পাকিস্তানি...

অপারেশন ট্রাইডেন্ট কী? ইতিহাস, কারণ ও গুরুত্ব | 1971 War

অপারেশন ট্রাইডেন্ট কী? ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পরিচালিত ভারতীয় নৌবাহিনীর ঐতিহাসিক 'অপারেশন ট্রাইডেন্ট'। ভূমিকা : অপারেশন ট্রাইডেন্ট ’ ছিল ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে র সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত সফল ও ঐতিহাসিক আক্রমণাভিযান । এর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশের) মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করা এবং পাকিস্তানের যুদ্ধক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। এটি পরিচালিত হয় পাকিস্তানের করাচি বন্দরকে লক্ষ্য করে। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতে এই অপারেশন চালানো হয়। ফলে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মনোবল ও সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। অভিযানের পটভূমি ও কারণ ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান হঠাৎ ভারতের একাধিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর জবাবে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানের অর্থনীতি ও নৌ-যোগাযোগের মূল কেন্দ্র করাচি বন্দর ধ্বংস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই অভিযানের প্রধান কারণগুলো হলো: করাচি বন্দরে অবস্থিত পাকিস্তানের জ্বালানি ডিপো ও তেল সরবরাহের পথ বন্ধ করা। শত্রুদেশের নৌবাহিনীকে বিপর্যস্ত করে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) চলমান মুক...

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কেন হয়েছিল? কারণ ও গুরুত্ব

আগরতলা ষড়যন্ত্র কেন হয়েছিল? দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: কারণ ও গুরুত্ব’ Why did the ‘Agartala Conspiracy’ happen? ভূমিকা: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বানানো একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যার আসল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে দমন করা। 💪  আগরতলা ষড়যন্ত্রের কারণ: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বর্তমান ছিল। ১. ছয় দফা আন্দোলন দমন: ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন, যা আসলে স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল। পাকিস্তান সরকার এটিকে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য হুমকি মনে করে। 📌 আরও জেনে রাখো : শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবি কি ছিল? | উত্তর এখানে ➠ ২. বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান রোধ: ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনা জোরদার হচ্ছিল। একে স্তব্ধ করতেই সরকার বাঙালি নেতা, সেনা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। ৩. সামরিক শাসনের বৈধতা আদায়: আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধ...

নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা: কারণ, ইতিহাস ও গুরুত্ব | Nasik Conspiracy Case

নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা | Nasik Conspiracy Case (Class 12 History) নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা (১৯১০): ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও বীর সাভারকরের ভূমিকা। (দ্বাদশ শ্রেণি) সূচনা ১৯০৯ সালে মহারাষ্ট্রের নাসিকের কালেক্টর এ. এম. টি. জ্যাকসন কে ‘ অভিনব ভারত’ সভার তরুণ সদস্য অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেড়ে গুলি করে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জেরে সূচিত হয় ঐতিহাসিক ‘ নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা ’ (১৯১০)। পটভূমি বা প্রেক্ষাপট মহারাষ্ট্রের নাসিক ছিল বিপ্লবী কার্যকলাপের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৮৯৭ সালে চাপেকর ভাইদের ফাঁসির প্রতিশোধ নিতে অভিনব ভারত সোসাইটির সদস্যরা অত্যাচারী ইংরেজ কর্মচারীদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। জ্যাকসন বিপ্লবী গণেশ দামোদর সাভারকরকে (বাবারাও সাভারকর) ১৯০৯ সালে (জুন মাসে) রাজদ্রোহের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আন্দামানে দ্বীপান্তরের  মতকঠোর সাজা দেন। এই সাজার প্রতিশোধ নিতেই  সোসাইটির সদস্যরা ১৯০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর  জ্যাকসনকে এক নাট্যমঞ্চে গুলি করে হত্যা করেন। শুরু হয় নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা । 📌 আরও জেনে রাখো : আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কেন হয়েছিল? | উত্ত...

জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উৎপত্তির কারণ

জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উৎপত্তির কারণ (The reasons for the emergence of extremists in the Indian National Congress.) ভারতে জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থী আন্দোলনের উত্থানের পটভূমি ও কারণসমূহ। ভূমিকা : চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ ঊনবিংশ শতকের শেষ দশক (১৮৯০) থেকে জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতৃবৃন্দের দুর্বলতা  এবং সেই সূত্রে তাদের  ব্যর্থতা  প্রকট হয়ে ওঠে ।  তাদের এই দুর্বল নীতির (আবেদন নিবেদন নীতির) বিরুদ্ধে  কিছু নেতা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। এরই প্রেক্ষাপটে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এক ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব গড়ে ওঠে, যা ‘ চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ ’ নামে পরিচিত। চরমপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী এই সমস্ত নেতা ও তাদের সমর্থকরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘ চরমপন্থী ’ নামে পরিচিত। চরমপন্থী মতবাদের উত্থানের পটভূমি : ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়ে। ১৯০৭ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনে তা চরম আকার ধারণ করে। এবং কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ১) নরমপন্থীদের দুর্বলতা : ড. অমলেশ ত্রিপাঠি, ড. বিপানচন্...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি বিশ্লেষণ করো।

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি বিশ্লেষণ করো। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব, ব্রিটিশ শাসকের দমনপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ, সংবাদপত্র ও জাতীয়তাবাদী সাহিত্য চর্চার প্রভাবে ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। এই রাজনৈতিক চেতনার প্রভাবেই ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়।  কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি : ১) পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব : উনিশ শতকে ভারতে তুমি পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ফলে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। ফলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তাগিদ অনুভব করে।  ২) ব্রিটিশ সরকারের শোষণের প্রভাব : ব্রিটিশ সরকারের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। দাদাভাই নৌরোজি তাঁর Proverty and Un-British rule in India ” গ্রন্থে লিখেছেন, “ভারত থেকে নিরন্তর সম্পদ নিঃসরণ ভারতীয়দের দেহ থেকে রক্তক্ষরণের সঙ্গে তুলনীয়।” ৩) নিরপত্তাবাতি তত্ত্বের প্রভাব : অ্যালেন অক্ট্রিভিয়ান হিউমের জীবনীকার উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন এর মতে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পিছনে হ...


বাংলা বই ★ দ্বাদশ শ্রেণি
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার 👆আদর্শ প্রশ্নোত্তরের একমাত্র পোর্টাল
OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)
আমাদের আরও কিছু বাংলা বই ( WBBSE & WBCHSE)

জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরগুলি দেখুন

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তগুলি (বৈশিষ্ঠ্য) উল্লেখ কর। ভারতের আর্থ-সামাজিক ইতিহাসে এই ভূমি-ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা কর।

অথবা , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি ব্যাখ্যা কর । এপ্রসঙ্গে ভারতের কৃষক সমাজের ওপর এই বন্দোবস্ত কীরূপ প্রভাব ফেলেছিল বর্ননা কর । উত্তর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হল এক ধরণের ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা ।   ১৭৯৩ সালে  লর্ড কর্ণওয়ালিস বাংলা , বিহার ও উড়িষ্যায় এই ভূমি-ব্যবস্থা চালু করেন । পরবর্তীকালে বারাণসী , উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও মাদ্রাস প্রেসিডেন্সির কোনো কোনো অঞ্চলে  এই ব্যবস্থা  চালু করা হয় । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি । কোম্পানির কর্মচারী ও ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার ডাও ১৭৭২ সালে  প্রথম  চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কথা বলেন । এরপর হেনরি পাত্তুলো , ড্যাক্রিস , টমাস ল প্রমুখ এই বন্দোবস্তের সপক্ষে যুক্তি দেখান । ১৭৮৬ সালে কর্ণওয়ালিশ গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন ।  তিন বছর ধরে  তিনি  বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যপক অনুসন্ধান চালান ।  এরপর ১৭৯০ সালে দেশীয় জমিদারদের সঙ্গে দশ বছরের জন্য একটি বন্দোবস্ত করেন, যা ‘ দশসালা বন্দোবস্ত ’ নামে পরিচিত । সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন , ইংল্যান্ডের কর্তপক্ষ অনুমোদন করলে এই...

জাদুঘর কাকে বলে? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা , জাদুঘর কী ? জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি বর্ননা কর । অথবা , জাদুঘর বলতে কী বোঝ ? আধুনিক ইতিহাস রচনায় জাদুঘরের গুরুত্ব লেখ । উঃ জাদুঘরের সংজ্ঞা বাংলা ‘ জাদুঘর ’ শব্দটির ইংরাজি প্রতিশব্দ হল মিউজিয়াম ( Museum) । ‘ মিউজিয়াম ’ শব্দটির মূল উৎস হল প্রাচীন গ্রীক শব্দ Mouseion ( মউসিয়ান) , যার অর্থ হল গ্রীক পুরাণের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউসদের মন্দির । এই ধরণের মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে প্রাচীন গ্রিসে পাঠাগার , প্রাচীন শিল্পকলা প্রভৃতির সংগ্রহশালা গড়ে উঠত । ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম -এর মতে, জাদুঘর হল একটি অলাভজনক, জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত এবং স্থায়ী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষালাভ, জ্ঞানচর্চা ও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে মানব ঐতিহ্যের স্পর্শযোগ্য ও স্পর্শ-অযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে, প্রদর্শন করে এবং সেগুলি নিয়ে গবেষণা করে। উদাহরণ – ব্রিটিশ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলা, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের নিদর্শন। এখানে পৃথক পৃথক ঘরে পৃথক পৃথক বিষয়ের নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। জাদুঘরের উদ্দেশ্য , ক...

ঠান্ডা লড়াই কী? ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি আলোচনা করো।

ঠান্ডা লড়াই কী : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের (১৯৪৫) পর পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ পরস্পর দুটি রাষ্ট্রজোটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। একটি আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট অন্যটি সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট। এই দুই রাষ্ট্রজোট কোন প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না করেও দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধের আবহ বা ছায়াযুদ্ধ চালাতে থাকে। এই ছায়াযুদ্ধই ইতিহাসে 'ঠান্ডা লড়াই' নাম পরিচিত। মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ( Walter Lippmaan ) ১৯৪৭ সালে তাঁর The Cold War গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। ঠান্ডা লড়াইয়ের বৈশিষ্ঠ্য : 'ঠান্ডা লড়াই কী' এই অংশের জন্য ৩/৪ (তিন বা চার ) নম্বর (মার্কস) থাকলে অথবা বৈশিষ্ঠ্য লিখতে বললে  এখানে ক্লিক কর এবং যে অংশ বের হবে তা এই পয়েন্টের নিচে জুড়ে দাও। ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি : ঠান্ডা লড়াই-এর পিছনে শুধুমাত্র আদর্শগত বা অর্থনৈতিক কারণ বা ভিত্তি কাজ করেছিল এমন নয়। এর পিছনে আরও কিছু বিষয় তথা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী কার্যকর ছিল। সমগ্র কারণকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সাম্যবাদের বিরোধিতা : রাশিয়...

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল বর্ননা কর।

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৬ সালে নবাব আলীবর্দি মারা যান । এরপর তাঁর পৌত্র সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার সিংহাসন আরোহন করেন । সিংহাসন আরোহনের কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজদের সাথে তাঁর বিরোধ বাঁধে , যার চূড়ান্ত পরিনতি হল ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ ।   এই যুদ্ধের পটভূমি বিশ্লেষণ করলেই সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি পরিষ্কার হয়ে ওঠে । সেই সঙ্গে এটাও বোঝা যাবে এই বিরোধে সিরাজেরে ‘ অহমিকাবোধ ’ ও ‘ অর্থলোভ ’ দায়ী ছিল কিনা । পলাশীর মূল ষড়যন্ত্র :👉  তথ্য তালাশে পলাশির যুদ্ধের পটভূমি / কারণ সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি হল –   আনুগত্যদানে বিলম্ব। সিরাজ বাংলার সিংহাসনে বসলে প্রথা অনুযায়ী নবাবের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ফরাসি, ওলন্দাজ প্রভৃতি কোম্পানিগুলি উপঢৌকন পাঠালেও ইংরেজরা ইচ্ছা করে উপঢৌকন পাঠাতে দেরি করে। এতে সিরাজ অপমানিত হন।   ষড়যন্ত্রের সংবাদ। সিংহাসনে বসার সময় থেকে ঘষেটি বেগম, সৌকত জঙ্গ ও কয়েকজন রাজকর্মচারি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিলেন। খবর আসে যে, এই ষড়যন্ত্রে ইংরেজরা যুক্ত আছে এবং তাঁকে সরিয়ে অনুগত কাউকে সিংহাসনে বসানোর চক্...

তিন আইন কী?

তিন আইন কী? ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলে ১৮৭২ সালে ব্রিটিশ সরকার বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক কুসংস্কারগুলি নিষিদ্ধ করে এবং বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়। যে আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার এই ঘোষণা জারি করে তাকে ' তিন আইন ' বলে।

বাংলার সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, বাংলার সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর। অথবা, ঊনবিংশ শতকে নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ কর। অথবা, উনিশ শতকের নবজাগরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা কি ছিল? এ প্রসঙ্গে নারীজাতির উন্নয়নে তাঁর অবদান ব্যাখ্যা কর।  বিদ্যাসাগর ও সংস্কার আন্দোলন : ঊনবিংশ শতকে ভারতে যে কজন সংস্কারকের জন্ম হয়েছিল তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন বঙ্গীয় নবজাগরণের মূর্ত প্রতীক। তাঁর মধ্যে ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রবল যুক্তিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগাঢ় মানবতাবাদ, এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। মাইকেল মধুসূদনের মতে, ' যাঁর মনীষা প্রাচীন ঋষিদের মতো, কর্মদক্ষতা ইংরেজদের মত এবং হৃদয়বত্তা বাঙালি জননীর মত। ' বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টা : বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। এক . শিক্ষা সংস্কার, দুই . সমাজ সংস্কার। তবে তাঁর এই দুই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে ছিল নারীশিক্ষা ও ...

'মুক্তদ্বার নীতি' (Open Door Policy) কী?

চিনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপনিবেশিক আধিপত্য স্থাপনের ফলে আমেরিকা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা ভাবতে শুরু করে এর ফলে চিনে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থি...

চিনের ৪ ঠা মে আন্দোলনের কারণ বিশ্লেষণ কর। এই আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা কর। (২০১৬)

অথবা, বিংশ শতকে চিনে ৪ ঠা মে-র আন্দোলনের উত্থান ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। চিনের সেই সময়কার দুটি উল্লেখযোগ্য সংবাদপত্রের নাম লেখো। অথবা, চিনের ৪ ঠা মের আন্দোলনের পটভূমি আলোচনা কর। এই আন্দোলনের ফলাফল বা তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।  ৪ ঠা মে-র আন্দোলন : ১৯১৪  সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জাপান চিনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধে চীন মিত্রপক্ষে যোগ দিলেও যুদ্ধের পর তারা কোনো সুবিচার পায় নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে চিনা জাতীয়তাবাদী জনগণ চেন-তু-শিউ এর নেতৃত্বে  ১৯১৯ সালে ৪ ঠা মে পিকিং-এর তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ার -এ  এক আন্দোলনের ডাক দেয়। এই আন্দোলন চিনের ইতিহাসে ৪ ঠা মে-র আন্দোলন নামে পরিচিত। আন্দোলনের কারণ ( পটভূমি ) : এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে এর কারণগুলি অনুধাবন করা যায়। ইউয়ান-সি-কাই এর নৃশংসতা : ১৯১১ সালে বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতি সান-ইয়াত-সেন দেশের গৃহযুদ্ধ এড়াতে ইউয়ান-সি-কাই  - এর অনুকূলে স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর  ইউয়ান-সি-কাই  সমস্ত সাংবিধানিক পদ্ধতি বাতিল করে সামরিক একনায়কতন...

মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল?

কোন পরিস্থিতিতে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) শুরু হয়? এই মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন শ্রমিক নেতার নাম লেখো। এই মামলার ফলাফল কী হয়েছিল? অথবা, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল? অথবা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির অবদানের একটি উদাহরণ দাও। এপ্রসঙ্গে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। এই মামলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। উত্তর : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা : ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কমিউনিস্টদের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে ব্রিটিশ সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এইরূপ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছিল। মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) হল এরকমই এক দমননীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মামলার প্রেক্ষাপট : ১) শ্রমিক-মালিক বিরোধ । ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ভারতে শিল্পায়ন শুরু হলে শ্রমিক শ্রেণির উদ্ভব হয়। বিংশ শতকের প্রথম দিকে মালিক শ্রেণির শোষণ ও অত্যাচারে শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রমিক শ্রেণির অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিস্টরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করে তুলে ব্রিটিশ সরকার চিন্তায় পড়ে যা...

সার্ক (SAARC) কী?

সার্ক হল দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। এর পুরো নাম 'দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা'  ( South Asian Association for Regional Co-operation) । ১৯৭৯ সালে এই সংস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেন স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অবশেষে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মোট ৭টি দেশ নিয়ে এই সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি হল ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।  -----------x---------- অষ্টম অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বিভাগের আরও প্রশ্ন  ১)  অব-উপনিবেশবাদ কী?   ২)  অব-উপনিবেশিকরণ শব্দটি কে কবে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৩)  নয়া-উপনিবেশবাদ কী?  ৪)  তৃতীয় বিশ্ব কী?   ৫)  'তৃতীয় বিশ্ব' কথাটি কবে, কোথায়, কে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৬)  কোন দেশকে কেন্দ্র করে আফ্রিকা ঠান্ডা যুদ্ধের আবর্তে জড়িয়ে পড়ে?  ৭)  আলজেরিয়া কবে কার শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে?   ৮)  বেন বেল্লা কে ছিলেন?  ৯)  'ত্রিপোলি কর্মসূচি' কী?  ১০)  HIT AND R...