সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

প্রশ্নের মান - ৩ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও তার ফলাফল

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কী? এর ফলাফল কী হয়েছিল? এই তথ্যচিত্রটি ভারতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রভাব এবং এটি যে চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয়েছিল, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করে। এটি ইতিবাচক দিকগুলি যেমন কৃষি ও শিল্পের উন্নতি এবং নেতিবাচক দিকগুলি যেমন দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা : স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচ বছরের জন্য গৃহীত সার্বিক উন্নয়নমূলক নীতি বা পরিকল্পনাকে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা  বলা হয়। ১৯৫০ সালে পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত ‘ পরিকল্পনা কমিশন ’ (Planning Commission) ১৯৫১ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চালু করে। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ফলাফল : ভারতে ১৯৫১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ১২টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কার্যকর হয়। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয়প্রকার ফলাফলই ভারতের অর্থনীতি ও সমাজে দেখা গিয়েছিল: [ক] ইতিবাচক ফলাফল: [1] কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতি: প্রথম পরিকল্পনাতেই কৃষির ওপর জোর দেওয়া হয়। ভাকরা-নাঙ্গাল, ডিভিসি (DVC)-র মতো নদী উপত্যকা প্রকল্প গড়ে ওঠে এবং সবুজ বিপ্লবের মাধ্য...

সংবিধানের প্রস্তাবনা: ধারণা ও মূল কথা

সংবিধানের প্রস্তাবনা বলতে কী বোঝো? প্রস্তাবনার মূল কথা কী? ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং এর মূল নীতিগুলি বোঝার একটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা। সংবিধানের প্রস্তাবনা সংবিধানের ‘ প্রস্তাবনা ’ (Preamble) হলো মূল সংবিধানের ভূমিকা বা রূপরেখা। সহজ কথায়, একটি বইয়ের শুরুতে যেমন ‘ ভূমিকা ’ থাকে, তেমনই সংবিধানের শুরুতেই এই প্রস্তাবনাটি যুক্ত রয়েছে। এটি সংবিধানের মূল আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং দর্শনের সংক্ষিপ্তসার। ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনাকে সংবিধানের ‘ আত্মা ’, ‘ চাবিকাঠি ’ ও ‘ দর্পণ ’ বলা হয়ে থাকে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর উত্থাপিত ঐতিহাসিক ‘ আদর্শ সংক্রান্ত প্রস্তাব ’ (Objectives Resolution)-এর ওপর ভিত্তি করে এই প্রস্তাবনাটি রচিত হয়েছে। প্রস্তাবনার মূল কথা: [১] ক্ষমতার উৎস: প্রস্তাবনার শুরুতেই “ আমরা, ভারতের জনগণ... ” শব্দগুলির মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভারতের সংবিধানের আসল উৎস এবং সমস্ত ক্ষমতার চালিকাশক্তি হলো দেশের জনগণ। [২] রাষ্ট্রের প্রকৃতি:   প্রস্তাবনায় ভারতকে একটি সার্বভৌম , সমাজতান্ত্রিক , ধর্মনিরপেক্ষ , গণতান্ত্রিক , প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই শব্দগু...

পঞ্চশীল নীতি: ধারণা ও মূলনীতি

পঞ্চশীল নীতি: ধারণা ও মূলনীতি পঞ্চশীল নীতির ইতিহাস, লক্ষ্য এবং প্রধান পাঁচটি মূলনীতির সংক্ষিপ্ত সংকলন। পঞ্চশীল নীতি কী? ‘ পঞ্চশীল ’ কথাটির অর্থ হলো পাঁচটি নীতি বা নিয়ম। ১৯৫৪ সালের ২৯ এপ্রিল ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং চিনের প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী)  চৌ এন-লাইয়ের মধ্যে তিব্বত সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মুখবন্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি , স্থায়িত্ব ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য যে পাঁচটি নীতি গ্রহণ করা হয়, তা ইতিহাসে ‘ পঞ্চশীল নীতি ’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলনেও এই নীতিগুলি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পঞ্চশীল নীতির মূলনীতিসমূহ: [1] আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা: চুক্তিভুক্ত দেশগুলি একে অপরের সীমান্ত, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে চলবে। [2] পরস্পরকে আক্রমণ না করা (অনাক্রমণ): কোনো দেশই নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাবে না বা সশস্ত্র হামলা চালাবে না। [3] অন্যের অভ্যন্তরীণ বি...

ভারতের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারির গুরুত্ব কী?

ভারতের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারির গুরুত্ব কী? ভারতের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারির ঐতিহাসিক গুরুত্ব: সংবিধান কার্যকর, পূর্ণ স্বরাজের স্মৃতি এবং স্বাধীন ভারতের সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ। ভূমিকা : ২৬ শে জানুয়ারি ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি আধুনিক ভারতের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনেই দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের আইনি অবশেষ মুছে ফেলে স্বাধীন ভারত নিজের মৌলিক সংবিধান কার্যকর করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি “ সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র ” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২৬ শে জানুয়ারির গুরুত্ব : বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই দিনটির গভীর তাৎপর্য অনুভব করা যায়। ১. সংবিধান কার্যকর ও সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ১৯৪৯ সালের ২৬ শে নভেম্বর ড. বি আর আম্বেদকরের নেতৃত্বে রচিত ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি এই সংবিধানটি পূর্ণাঙ্গরূপে সারা দেশে কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ গঠিত ‘ গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ’ বাতিল হয় এবং ভারত নিজস্ব শাসন পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হতে শুরু করে। ২. ১৯৩০ সালের ‘পূর্ণ স্বরাজ’ স...

ভারতীয় গণপরিষদ কী? গণপরিষদের উদ্দেশ্য কী ছিল?

ভারতীয় গণপরিষদ ও তার উদ্দেশ্য দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস: ভারতীয় গণপরিষদের গঠন, পটভূমি ও মূল উদ্দেশ্য। ভূমিকা : ভারতীয় গণপরিষদ ভারতীয় গণপরিষদ (Constituent Assembly of India) হলো স্বাধীন ভারতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিশেষ সার্বভৌম প্রতিনিধি সভা । ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission)-এর প্রস্তাব অনুযায়ী পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই গণপরিষদ গঠিত হয়। গণপরিষদের গঠন ও পটভূমি গঠনকাল: ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে একটি পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিষদ গঠিত  হয় এবং ৯ ডিসেম্বর  গণপরিষদের  প্রথম অধিবেশন বসে। নেতৃত্ব: গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন ডা. সচ্চিদানন্দ সিনহা এবং পরবর্তীতে স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ । সংবিধানের খসড়া কমিটির (Drafting Committee) সভাপতি ছিলেন ডা. বি. আর. আম্বেদকর । সদস্য সংখ্যা: শুরুতে গণপরিষদের  মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯ (প্রাদেশিক আইনসভার মাধ্যমে নির্বাচিত ও দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি) জন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর  এই  সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৯৯ -এ। গণপরিষদের প্রধান উদ্দেশ্যস...

নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা: কারণ, ইতিহাস ও গুরুত্ব | Nasik Conspiracy Case

নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা | Nasik Conspiracy Case (Class 12 History) নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা (১৯১০): ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও বীর সাভারকরের ভূমিকা। (দ্বাদশ শ্রেণি) সূচনা ১৯০৯ সালে মহারাষ্ট্রের নাসিকের কালেক্টর এ. এম. টি. জ্যাকসন কে ‘ অভিনব ভারত’ সভার তরুণ সদস্য অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেড়ে গুলি করে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জেরে সূচিত হয় ঐতিহাসিক ‘ নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা ’ (১৯১০)। পটভূমি বা প্রেক্ষাপট মহারাষ্ট্রের নাসিক ছিল বিপ্লবী কার্যকলাপের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৮৯৭ সালে চাপেকর ভাইদের ফাঁসির প্রতিশোধ নিতে অভিনব ভারত সোসাইটির সদস্যরা অত্যাচারী ইংরেজ কর্মচারীদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। জ্যাকসন বিপ্লবী গণেশ দামোদর সাভারকরকে (বাবারাও সাভারকর) ১৯০৯ সালে (জুন মাসে) রাজদ্রোহের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আন্দামানে দ্বীপান্তরের  মতকঠোর সাজা দেন। এই সাজার প্রতিশোধ নিতেই  সোসাইটির সদস্যরা ১৯০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর  জ্যাকসনকে এক নাট্যমঞ্চে গুলি করে হত্যা করেন। শুরু হয় নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা । 📌 আরও জেনে রাখো : আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কেন হয়েছিল? | উত্ত...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কী ছিল?

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কী ছিল? জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কী ছিল? ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাইতে ৭২ জন জনপ্রতিনিধি নিয়ে সংঘটিত একটি অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় । কংগ্রেসের উৎপত্তি ও তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকলেও একথা অনস্বীকার্য যে এ ব্যাপারে হিউম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা : জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা সম্পর্কে দুটি তত্ত্ব লক্ষ্য করা যায়। প্রথমটি ‘ সেফটি ভালভ তত্ত্ব ’ এবং দ্বিতীয়টি ‘ হিউম-ড্যাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ’। ক) সেফটি ভালভ তত্ত্ব : জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় সেফটি ভালভ তত্ত্বের উল্লেখ পাওয়া যায় দুটি সূত্র থেকে। ১) উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন ও সেফটি ভালভ তত্ত্ব : হিউমের জীবনী গ্রন্থের লেখক উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন ‘সেফটি ভালভ তত্ত্বে’র প্রবক্তা। তিনি এই জীবনে গ্রন্থে ( Alan Octavian Hume : father of Indian National Congress ) লিখেছেন, “হিউমী ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের পরিকল্পনাকারী ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।” উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন -এর মতে, স...

থিওডোর বেক কে ছিলেন? আলীগড় আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা কী ছিল?

থিওডোর বেক কে ছিলেন? আলীগড় আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা কী ছিল? থিওডোর বেক কে ছিলেন? আলীগড় আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা থিওডোর বেক কে ছিলেন? থিওডোর বেক একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ এবং আলীগড় মহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ। স্যার সৈয়দ আহমেদের আমন্ত্রণে ১৮৮৩ সালে তিনি এই কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবং অমৃত্য এই পদে কর্মরত থেকে তিনি আলীগড় আন্দোলনকে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আলিগড় আন্দোলনে থিওডোর বেক-এর অবদান : এই কলেজে অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে থিওডোর বেক মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রসার এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১) ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটানো। মুসলিম সমাজে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য তিনি আলিগড় অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি আমৃত্যু এই কাজ করেছিলেন। ২) আধুনিকতা ও যুক্তিবাদের প্রসার ঘটানো। পাশ্চাত্য শিক্ষার বিরোধী মুসলিম সমাজকে আধুনিকতা ও যুক্তিবাদের পথে পরিচালনার ক্ষেত্রে থিওডোর বেক স্যার সৈয়দ আহমেদ খানের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ৩) রাজনৈতিক চেতনার প্রসার ঘটানো। মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতি...

হিন্দু মহাসভা কেন গড়ে উঠেছিল?

হিন্দু মহাসভা কেন গড়ে উঠেছিল? হিন্দু মহাসভা কেন গড়ে উঠেছিল? মদনমোহন মালব্য ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ‘ অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটানো। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এবং নিম্নলিখিত কারণে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয়রা এই সংগঠনের জন্ম দিয়েছিলেন। হিন্দু মহাসভা প্রতিষ্ঠার কারণ : হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করা : ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে। বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানের পরিপ্রেক্ষিতেই এবং হিন্দু সমাজের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। সংস্কার ও ঐক্য বিধান করা : হিন্দু সমাজে জাতি ও উপজাতির মধ্যে বৈষম্য ও  বিভাজন ছিল প্রকট। এই বিভাজন দূর করে ঐক্য স্থাপনের উদ্দেশ্য নিয়েই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের বিরোধিতা করা : কংগ্রেস ছিল সর্বধর্ম সমন্বয়ের নীতিতে বিশ্বাসী। তাই ধর্মের ভিত্তিতে পৃথক দাবি-দাওয়ার তারা বিরোধী ছিল। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের রাজনীতির বিরোধিতায় কিছু হিন্দু নেতা হিন্দু মহাসভা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভব করেন। ধর্মীয় উত্তেজনা ও প্...

আলীগড় আন্দোলন কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল?

আলীগড় আন্দোলন কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? আলীগড় আন্দোলন কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? আলীগড় আন্দোলন : সৈয়দ আহমেদ খান ছিলেন একজন সমাজ, ধর্ম ও শিক্ষা সংস্কারক । ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে মুসলিম সমাজ শিক্ষা ক্ষেত্রে ভয়ংকর ভাবে পিছিয়ে আছে। এই পিছিয়ে পড়া আটকানোর জন্য তিনি একাধারে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেন। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সংস্কার আন্দোলন আলিগড় আন্দোলন নামে পরিচিত। আলীগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য : আলিগড় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল— সমাজ সংস্কার : মুসলিম সমাজের পিছিয়ে পড়া আটকাতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন ছিল সমাজকে সংস্কার করা। বিশেষ করে ইউরোপীয় শিক্ষার প্রতি অনীহার অবসান ঘটানো। এই উদ্দেশ্যে তিনি কোরান ভিত্তিক সমাজকে সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। আধুনিক শিক্ষার প্রসার : সমাজ সংস্কার কে এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে আধুনিক শিক্ষা অপরিহার্য। এ কারণে মুসলিম সমাজকে অশিক্ষার অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে ইউরোপীয় শিক্ষার প্রসারের উদ্যোগ নেন। আলীগড় মুসলিম কলেজ তারই ফসল।  সরকারি চাকরি সুযোগ : আধুনিক ইউরোপীয় শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে তিনি ...

মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ সংক্ষেপে লেখো।

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ সংক্ষেপে লেখো। মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ ঔপনিবেশিক শাসনে র মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক শোষণ। পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই শোষণ তারা নির্মমভাবে চালিয়েছে। ফলে সমাজের নানা স্তরের মানুষ আর্থিক দিক থেকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ : অধ্যাপক শশীভূষণ চৌধুরী মতে, ভারতের সাধারণ মানুষ জমি ও সম্পত্তির অধিকার হারিয়ে ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের যোগদান করেছিল। ১) সম্পদ লুণ্ঠন :  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালে ‘পলাশীর লুণ্ঠন’ দিয়ে শুরু করে ভারতের সম্পদ লুণ্ঠনের আগ্রাসী প্রক্রিয়া। এরপর প্রায় একশো বছর ধরে তারা দেশের সম্পদ নানা কৌশলে লুট করে এবং ইংল্যান্ডে পাচার করে। ২) কুটির শিল্পের ধ্বংস সাধন :  অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ঘটে। এই শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং শিল্পকণ্য বিক্রি করার জন্য ভারতীয়দের ঘাড়ে বৈষম্য মূলক শুল্কনীতি চাপায়। ফলে, ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়ে এবং ইংল্যান্ডের পণ্যের দাম কমে যায়। পরিনাম ভারতীয় কুটির শিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে য...

স্বত্ববিলোপ নীতি ও তার শর্ত

স্বত্ববিলোপ নীতি কী ও তার শর্তগুলো কী ছিল? স্বত্ববিলোপ নীতি ও তার শর্ত Expiration Policy and its Conditions ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যে সমস্ত অনৈতিক  সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি অবলম্বন করেছিল, তাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নীতি হল ‘ স্বত্ববিলোপ নীতি’ । ১৮৩৪ সালে লর্ড বেন্টিং -এর আমলে কোম্পানির ‘ ডাইরেক্টর সভা’ ( লন্ডনের   বোর্ড অফ ডাইরেক্টর ) দত্তপুত্র গ্রহণের অধিকার নিয়ন্ত্রণের কথা ঘোষণা করে এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু তখন তা কার্যকর করা হয়নি। মনে রাখতে হবে, ১) ডালহৌসিই  (১৮৪৮-১৮৫৬) প্রথম কঠোরভাবে এই নীতি কার্যকর করে। ২) কিন্তু তিনি কখনই এই নীতির প্রবর্তক ছিলেন না । স্বত্ববিলোপ নীতির মূল কথা : এই নীতির মূল কথা হল, ভারতের দেশীয় রাজ্যগুলির রাজাদের কোন পুত্র সন্তান না থাকলে সেই রাজ্যগুলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে।  স্বত্ববিলোপ নীতির শর্ত ও তার ব্যাখ্যা : ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই নীতি কার্যকর করার জন্য লড ডালহৌসি দেশীয় রাজ্যগুলিকে তিনভাগে বিভক্ত করেন। কোম্পানির দ্বারা সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য...

মহাবিদ্রোহের সামাজিক কারণ

মহাবিদ্রোহের সামাজিক কারণ কী ছিল? মহাবিদ্রোহের সামাজিক কারণ Social causes of the Great Revolt ১৭৫৭ সালের পর থেকে ১৮৫৭ সালের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং তার কর্মচারীরা প্রায় ১০০ বছর ধরে ভারতীয়দের উপর যে সামাজিক বৈষম্য এবং শোষণ ও উৎপীড়ন চালিয়েছিল তা মহাবিদ্রোহের সামাজিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়।  মহাবিদ্রোহের সামাজিক কারণ : প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে প্রবেশ করেছে পৃথিবীর নানা অঞ্চল থেকে আসা নানা জাতির মানুষ। ক্রমান্বয়ে তারা মিশে গেছে ভারতের জনজীবনে। কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম ব্রিটিশ জাতি। ১) বিজাতীয় আচরণ : ইংরেজরা ভারতীয় জনসমাজের সঙ্গে মিশে তো যায়নি, উল্টে ভারতীয়দের সঙ্গে বিজাতীয় আচার-আচরণ করেছে, যা ভারতীয়দের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।  সুভাষচন্দ্র বসুর মতে, কেবলমাত্র ব্রিটিশ আমলেই ভারত নিজেদের বিজিত জাতি হিসেবে প্রথম উপলব্ধি করে।   ২) ঘৃণা সূচক দৃষ্টিভঙ্গি : ভারতীয়দের প্রতি ইংরেজদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং ঘৃণা সূচক। স্যার সৈয়দ আহমেদ এর মতে, ইংরেজ রাজকর্মচারীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে সম্ভ্রান্ত ভারতীয়রাও ভয় পেতেন।  ৩) ভারতীয়...

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ Political causes of the Great Revolt of 1857 ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ বিশ্লেষণ করো। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৭৭২ সালে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এবং ঠিক একশ বছর পর ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সরকার গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হয়। এই সংকটের নানামুখী রূপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হল রাজনৈতিক কারণ। 👉 আরও জানো : পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ : রাজনৈতিক কারণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্রিটিশ সরকারের আগ্রাসন নীতি। এই নীতি তারা বিভিন্ন উপায়ে কার্যকর করেন। ১) স্বত্ববিলোপ নীতির প্রভাব :  লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত স্বত্ববিলোপ নীতি দেশীয় রাজাদের দত্তপুত্রের উত্তরাধিকার অস্বীকার করে। এই নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশ সরকার সাতারা, সম্বলপুর, ঝাঁসি, উদয়পুর প্রভৃতি দেশীয় রাজ্য ব্রিটিশ সরকারের কুক্ষিগত করে। নানা সাহেব বাৎসরিক ভাতা বন্ধ হয় এবং পেশোয়াপদ বিলুপ্ত করা হয়। 👉 আরও জানে নাও : স্বত্ববিলোপ নীতি ও তার শর্ত কি ছিল ? ২) অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি : ...

'পঞ্চশীল' কী?

'পঞ্চশীল' কী? ১৯৫৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও চিনের প্ৰধানমন্ত্ৰী চৌ এন লাই ভারত-চিন সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচটি নীতি অনুসরণ করে যে চুক্তিতে উপনীত হন তা ভারত-চিন পঞ্চশীল চুক্তি নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, এই নীতির মূল কথা হল পরস্পরের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, অনাক্রমণ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইত্যাদি। এই নীতিগুলি  পঞ্চশীল নীতি -র অন্যতম ভিত্তি। ---------✦✦✦--------- 📌 এই প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে : ‘ পঞ্চশীল নীতি ’ নীতি বলতে কী বোঝ? এই নীতি গ্রহণের লক্ষ্য কী ছিল ? ‘ পঞ্চশীল নীতি ’র ভিত্তি কী? এই নীতির মূল কথা কী? ‘ পঞ্চশীল নীতি ’র প্রবক্তা কে? এই নীতির উদ্দেশ্য কী ছিল? 📌 পঞ্চম ইউনিটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: ভারতের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারির গুরুত্ব কী? ভারতীয় গণপরিষদ কী? গণপরিষদের উদ্দেশ্য কী ছিল ? সংবিধানের প্রস্তাবনা বলতে কী বোঝো? প্রস্তাবনার মূল কথা উল্লেখ কী? ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝো? পঞ্চশীল নীতি বলতে কী বোঝো? এর মূলনীতি কী ছিল? বেলগ্রেড সম্মেলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।


বাংলা বই ★ দ্বাদশ শ্রেণি
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার 👆আদর্শ প্রশ্নোত্তরের একমাত্র পোর্টাল
OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)
আমাদের আরও কিছু বাংলা বই ( WBBSE & WBCHSE)

জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরগুলি দেখুন

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তগুলি (বৈশিষ্ঠ্য) উল্লেখ কর। ভারতের আর্থ-সামাজিক ইতিহাসে এই ভূমি-ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা কর।

অথবা , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি ব্যাখ্যা কর । এপ্রসঙ্গে ভারতের কৃষক সমাজের ওপর এই বন্দোবস্ত কীরূপ প্রভাব ফেলেছিল বর্ননা কর । উত্তর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হল এক ধরণের ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা ।   ১৭৯৩ সালে  লর্ড কর্ণওয়ালিস বাংলা , বিহার ও উড়িষ্যায় এই ভূমি-ব্যবস্থা চালু করেন । পরবর্তীকালে বারাণসী , উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও মাদ্রাস প্রেসিডেন্সির কোনো কোনো অঞ্চলে  এই ব্যবস্থা  চালু করা হয় । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি । কোম্পানির কর্মচারী ও ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার ডাও ১৭৭২ সালে  প্রথম  চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কথা বলেন । এরপর হেনরি পাত্তুলো , ড্যাক্রিস , টমাস ল প্রমুখ এই বন্দোবস্তের সপক্ষে যুক্তি দেখান । ১৭৮৬ সালে কর্ণওয়ালিশ গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন ।  তিন বছর ধরে  তিনি  বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যপক অনুসন্ধান চালান ।  এরপর ১৭৯০ সালে দেশীয় জমিদারদের সঙ্গে দশ বছরের জন্য একটি বন্দোবস্ত করেন, যা ‘ দশসালা বন্দোবস্ত ’ নামে পরিচিত । সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন , ইংল্যান্ডের কর্তপক্ষ অনুমোদন করলে এই...

জাদুঘর কাকে বলে? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা , জাদুঘর কী ? জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি বর্ননা কর । অথবা , জাদুঘর বলতে কী বোঝ ? আধুনিক ইতিহাস রচনায় জাদুঘরের গুরুত্ব লেখ । উঃ জাদুঘরের সংজ্ঞা বাংলা ‘ জাদুঘর ’ শব্দটির ইংরাজি প্রতিশব্দ হল মিউজিয়াম ( Museum) । ‘ মিউজিয়াম ’ শব্দটির মূল উৎস হল প্রাচীন গ্রীক শব্দ Mouseion ( মউসিয়ান) , যার অর্থ হল গ্রীক পুরাণের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউসদের মন্দির । এই ধরণের মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে প্রাচীন গ্রিসে পাঠাগার , প্রাচীন শিল্পকলা প্রভৃতির সংগ্রহশালা গড়ে উঠত । ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম -এর মতে, জাদুঘর হল একটি অলাভজনক, জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত এবং স্থায়ী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষালাভ, জ্ঞানচর্চা ও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে মানব ঐতিহ্যের স্পর্শযোগ্য ও স্পর্শ-অযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে, প্রদর্শন করে এবং সেগুলি নিয়ে গবেষণা করে। উদাহরণ – ব্রিটিশ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলা, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের নিদর্শন। এখানে পৃথক পৃথক ঘরে পৃথক পৃথক বিষয়ের নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। জাদুঘরের উদ্দেশ্য , ক...

ঠান্ডা লড়াই কী? ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি আলোচনা করো।

ঠান্ডা লড়াই কী : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের (১৯৪৫) পর পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ পরস্পর দুটি রাষ্ট্রজোটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। একটি আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট অন্যটি সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট। এই দুই রাষ্ট্রজোট কোন প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না করেও দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধের আবহ বা ছায়াযুদ্ধ চালাতে থাকে। এই ছায়াযুদ্ধই ইতিহাসে 'ঠান্ডা লড়াই' নাম পরিচিত। মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ( Walter Lippmaan ) ১৯৪৭ সালে তাঁর The Cold War গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। ঠান্ডা লড়াইয়ের বৈশিষ্ঠ্য : 'ঠান্ডা লড়াই কী' এই অংশের জন্য ৩/৪ (তিন বা চার ) নম্বর (মার্কস) থাকলে অথবা বৈশিষ্ঠ্য লিখতে বললে  এখানে ক্লিক কর এবং যে অংশ বের হবে তা এই পয়েন্টের নিচে জুড়ে দাও। ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি : ঠান্ডা লড়াই-এর পিছনে শুধুমাত্র আদর্শগত বা অর্থনৈতিক কারণ বা ভিত্তি কাজ করেছিল এমন নয়। এর পিছনে আরও কিছু বিষয় তথা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী কার্যকর ছিল। সমগ্র কারণকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সাম্যবাদের বিরোধিতা : রাশিয়...

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল বর্ননা কর।

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৬ সালে নবাব আলীবর্দি মারা যান । এরপর তাঁর পৌত্র সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার সিংহাসন আরোহন করেন । সিংহাসন আরোহনের কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজদের সাথে তাঁর বিরোধ বাঁধে , যার চূড়ান্ত পরিনতি হল ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ ।   এই যুদ্ধের পটভূমি বিশ্লেষণ করলেই সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি পরিষ্কার হয়ে ওঠে । সেই সঙ্গে এটাও বোঝা যাবে এই বিরোধে সিরাজেরে ‘ অহমিকাবোধ ’ ও ‘ অর্থলোভ ’ দায়ী ছিল কিনা । পলাশীর মূল ষড়যন্ত্র :👉  তথ্য তালাশে পলাশির যুদ্ধের পটভূমি / কারণ সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি হল –   আনুগত্যদানে বিলম্ব। সিরাজ বাংলার সিংহাসনে বসলে প্রথা অনুযায়ী নবাবের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ফরাসি, ওলন্দাজ প্রভৃতি কোম্পানিগুলি উপঢৌকন পাঠালেও ইংরেজরা ইচ্ছা করে উপঢৌকন পাঠাতে দেরি করে। এতে সিরাজ অপমানিত হন।   ষড়যন্ত্রের সংবাদ। সিংহাসনে বসার সময় থেকে ঘষেটি বেগম, সৌকত জঙ্গ ও কয়েকজন রাজকর্মচারি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিলেন। খবর আসে যে, এই ষড়যন্ত্রে ইংরেজরা যুক্ত আছে এবং তাঁকে সরিয়ে অনুগত কাউকে সিংহাসনে বসানোর চক্...

তিন আইন কী?

তিন আইন কী? ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলে ১৮৭২ সালে ব্রিটিশ সরকার বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক কুসংস্কারগুলি নিষিদ্ধ করে এবং বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়। যে আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার এই ঘোষণা জারি করে তাকে ' তিন আইন ' বলে।

বাংলার সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, বাংলার সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর। অথবা, ঊনবিংশ শতকে নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ কর। অথবা, উনিশ শতকের নবজাগরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা কি ছিল? এ প্রসঙ্গে নারীজাতির উন্নয়নে তাঁর অবদান ব্যাখ্যা কর।  বিদ্যাসাগর ও সংস্কার আন্দোলন : ঊনবিংশ শতকে ভারতে যে কজন সংস্কারকের জন্ম হয়েছিল তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন বঙ্গীয় নবজাগরণের মূর্ত প্রতীক। তাঁর মধ্যে ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রবল যুক্তিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগাঢ় মানবতাবাদ, এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। মাইকেল মধুসূদনের মতে, ' যাঁর মনীষা প্রাচীন ঋষিদের মতো, কর্মদক্ষতা ইংরেজদের মত এবং হৃদয়বত্তা বাঙালি জননীর মত। ' বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টা : বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। এক . শিক্ষা সংস্কার, দুই . সমাজ সংস্কার। তবে তাঁর এই দুই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে ছিল নারীশিক্ষা ও ...

'মুক্তদ্বার নীতি' (Open Door Policy) কী?

চিনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপনিবেশিক আধিপত্য স্থাপনের ফলে আমেরিকা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা ভাবতে শুরু করে এর ফলে চিনে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থি...

চিনের ৪ ঠা মে আন্দোলনের কারণ বিশ্লেষণ কর। এই আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা কর। (২০১৬)

অথবা, বিংশ শতকে চিনে ৪ ঠা মে-র আন্দোলনের উত্থান ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। চিনের সেই সময়কার দুটি উল্লেখযোগ্য সংবাদপত্রের নাম লেখো। অথবা, চিনের ৪ ঠা মের আন্দোলনের পটভূমি আলোচনা কর। এই আন্দোলনের ফলাফল বা তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।  ৪ ঠা মে-র আন্দোলন : ১৯১৪  সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জাপান চিনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধে চীন মিত্রপক্ষে যোগ দিলেও যুদ্ধের পর তারা কোনো সুবিচার পায় নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে চিনা জাতীয়তাবাদী জনগণ চেন-তু-শিউ এর নেতৃত্বে  ১৯১৯ সালে ৪ ঠা মে পিকিং-এর তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ার -এ  এক আন্দোলনের ডাক দেয়। এই আন্দোলন চিনের ইতিহাসে ৪ ঠা মে-র আন্দোলন নামে পরিচিত। আন্দোলনের কারণ ( পটভূমি ) : এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে এর কারণগুলি অনুধাবন করা যায়। ইউয়ান-সি-কাই এর নৃশংসতা : ১৯১১ সালে বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতি সান-ইয়াত-সেন দেশের গৃহযুদ্ধ এড়াতে ইউয়ান-সি-কাই  - এর অনুকূলে স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর  ইউয়ান-সি-কাই  সমস্ত সাংবিধানিক পদ্ধতি বাতিল করে সামরিক একনায়কতন...

মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল?

কোন পরিস্থিতিতে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) শুরু হয়? এই মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন শ্রমিক নেতার নাম লেখো। এই মামলার ফলাফল কী হয়েছিল? অথবা, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল? অথবা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির অবদানের একটি উদাহরণ দাও। এপ্রসঙ্গে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। এই মামলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। উত্তর : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা : ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কমিউনিস্টদের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে ব্রিটিশ সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এইরূপ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছিল। মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) হল এরকমই এক দমননীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মামলার প্রেক্ষাপট : ১) শ্রমিক-মালিক বিরোধ । ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ভারতে শিল্পায়ন শুরু হলে শ্রমিক শ্রেণির উদ্ভব হয়। বিংশ শতকের প্রথম দিকে মালিক শ্রেণির শোষণ ও অত্যাচারে শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রমিক শ্রেণির অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিস্টরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করে তুলে ব্রিটিশ সরকার চিন্তায় পড়ে যা...

সার্ক (SAARC) কী?

সার্ক হল দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। এর পুরো নাম 'দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা'  ( South Asian Association for Regional Co-operation) । ১৯৭৯ সালে এই সংস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেন স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অবশেষে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মোট ৭টি দেশ নিয়ে এই সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি হল ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।  -----------x---------- অষ্টম অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বিভাগের আরও প্রশ্ন  ১)  অব-উপনিবেশবাদ কী?   ২)  অব-উপনিবেশিকরণ শব্দটি কে কবে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৩)  নয়া-উপনিবেশবাদ কী?  ৪)  তৃতীয় বিশ্ব কী?   ৫)  'তৃতীয় বিশ্ব' কথাটি কবে, কোথায়, কে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৬)  কোন দেশকে কেন্দ্র করে আফ্রিকা ঠান্ডা যুদ্ধের আবর্তে জড়িয়ে পড়ে?  ৭)  আলজেরিয়া কবে কার শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে?   ৮)  বেন বেল্লা কে ছিলেন?  ৯)  'ত্রিপোলি কর্মসূচি' কী?  ১০)  HIT AND R...