অপারেশন পাইথন (Operation Python)
![]() |
| ১৯৭১ সালে করাচি বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘অপারেশন পাইথন’-এর একটি প্রতীকী দৃশ্য। |
ভূমিকা : অপারেশন পাইথন
অপারেশন পাইথন (Operation Python) হলো ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালীন ৮-৯ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে করাচি বন্দরে পরিচালিত ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত সফল ও বিধ্বংসী দ্বিতীয় নৌ-অভিযান। এর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশের) মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করা এবং পাকিস্তানের যুদ্ধক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।পটভূমি ও প্রেক্ষাপট :
১৯৭১ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ এবং অপারেশন ট্রাইডেন্ট চালানোর ধারাবাহিকতায় এই অপারেশন (Operation Python) চালানো হয়।
✔ ট্রাইডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ:
১৯৭১ সালের ৪-৫ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে ভারতীয় নৌবাহিনী করাচি নৌবন্দরে ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ চালিয়ে একাধিক পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে। সেই হামলার ধারাবাহিকতায় জ্বালানি আধার ও বাকি অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতেই অপারেশন পাইথন চালানো হয়।
📌 আরও জেনে রাখো : অপারেশন ট্রাইডেন্ট কী? | উত্তর এখানে ➠
✔ সতর্কতা এড়িয়ে হামলা:
ট্রাইডেন্টের সাফল্যের পর পাকিস্তানি বিমান ও নৌবাহিনী করাচি উপকূলে গভীর নজরদারি শুরু করেছিল। তারা ভেবেছিল ভারতীয় মিসাইল বোটগুলো পুনরায় হামলা চালাবে না। কিন্তু ভারতীয় নৌবাহিনী উল্টো খারাপ আবহাওয়া ও রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়বার করাচি উপকূলে পৌঁছায়।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী যুদ্ধজাহাজ
🚢 [1] আইএনএস বিনাশ (INS Vinash):ওসা-১ শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌকা (Missile Boat), যা এই অভিযানের মূল আক্রমণকারী হিসেবে কাজ করেছিল।
🚢 [2] আইএনএস ত্রিশূল (INS Trishul) ও আইএনএস তলোয়ার (INS Talwar):
🚢 [2] আইএনএস ত্রিশূল (INS Trishul) ও আইএনএস তলোয়ার (INS Talwar):
দুটি মাল্টি-পারপাস ফ্রিগেট, যা ‘বিনাশ’-কে সুরক্ষা দিতে এবং শত্রু জাহাজের ওপর নজরদারি চালাতে সঙ্গ দিয়েছিল।
💣 আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি
১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে করাচি উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে অবস্থান নিয়ে আইএনএস বিনাশ মোট ৪টি স্টিঙ্কস (Styx) অ্যান্টি-শিপ মিসাইল নিক্ষেপ করে:💥 কেয়ামারি তৈল আধার (Keamari Oil Complex):
একটি মিসাইল সরাসরি করাচি বন্দরের মূল জ্বালানি রিজার্ভারে আঘাত হানে। এর ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বলছিল এবং পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে।
💥 এসএস ঢাকা (SS Dacca):
আরেকটি মিসাইল পাকিস্তান নৌবাহিনীর ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ট্যাঙ্কার ‘এসএস ঢাকা’-তে আঘাত হানে এবং এটিকে পঙ্গু করে দেয়।
💥 বিদেশি বণিক জাহাজ:
দুটি মিসাইল করাচি উপকূলে নোঙর করা ব্রিটিশ মার্চেন্ট জাহাজ ‘এসএস হারম্যাটান’ (SS Harmattan) এবং পানামানিয়ান জাহাজ ‘এসএস গুলিভার’ (SS Gulliver)-এ আঘাত করে।
অভিযানের ফলাফল ও তাৎপর্য :
| ক্রমিক | বিষয় | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষতি | শূন্য। কোনো ভারতীয় জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো সেনার প্রাণহানি ঘটেনি। |
| ২ | পাকিস্তানের ক্ষতি | প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস, নৌ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন এবং বাণিজ্যিক পথ অবরুদ্ধ। |
| ৩ | কৌশলগত প্রভাব | করাচি বন্দর সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে এবং আরব সাগরে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি শেষ হয়ে যায়। |
✨ গুরুত্ব:
অপারেশন ট্রাইডেন্ট এবং অপারেশন পাইথনের জোড়া আঘাতে পাকিস্তান নৌবাহিনী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তারা বন্দর ছেড়ে খোলা সাগরে আসার সাহস পায়নি।---------✦✦✦---------
📌 প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে :
- ‘অপারেশন পাইথন’ কবে কী উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়?
- ‘অপারেশন পাইথন’ কেন পরিচালিত হয়?
- কোন কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার ‘অপারেশন পাইথন’ চালায়?
- ‘অপারেশন পাইথন’-এর কারণ কী ছিল? এর গুরুত্ব লেখো।
📌 ইউনিট ৬-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :
📌 ইউনিট ৪-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :
- জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কী ছিল?
- নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।
- ‘ড্রেন অফ ওয়েলথ’ তত্ত্ব কী?
- জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার কারণ বিশ্লেষণ করো।
- জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উৎপত্তির কারণ

.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন