ভারতীয় গণপরিষদ ও তার উদ্দেশ্য
![]() |
| দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস: ভারতীয় গণপরিষদের গঠন, পটভূমি ও মূল উদ্দেশ্য। |
ভূমিকা : ভারতীয় গণপরিষদ
ভারতীয় গণপরিষদ (Constituent Assembly of India) হলো স্বাধীন ভারতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিশেষ সার্বভৌম প্রতিনিধি সভা। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission)-এর প্রস্তাব অনুযায়ী পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই গণপরিষদ গঠিত হয়।গণপরিষদের গঠন ও পটভূমি
- গঠনকাল: ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে একটি পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিষদ গঠিত হয় এবং ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- নেতৃত্ব: গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন ডা. সচ্চিদানন্দ সিনহা এবং পরবর্তীতে স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ। সংবিধানের খসড়া কমিটির (Drafting Committee) সভাপতি ছিলেন ডা. বি. আর. আম্বেদকর।
- সদস্য সংখ্যা: শুরুতে গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯ (প্রাদেশিক আইনসভার মাধ্যমে নির্বাচিত ও দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি) জন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৯৯-এ।
গণপরিষদের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ
১৯৪৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু গণপরিষদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে একটি ঐতিহাসিক ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব’ (Objective Resolution) পেশ করেন, যা পরবর্তীতে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনার (Preamble) মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। এই প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গণপরিষদের মূল উদ্দেশ্যগুলি হল:- স্বাধীন ও সার্বভৌম সংবিধান রচনা: ব্রিটিশ শাসনমুক্ত স্বাধীন ভারতের জন্য একটি সার্বিক, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা।
- প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: ভারতকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও প্রজা-কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করা।
- সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিচার সুনিশ্চিত করা: ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, সামাজিক মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
- মৌলিক স্বাধীনতা প্রদান: চিন্তাভাবনা, মতামত প্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্মচর্চা এবং সংগঠনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া।
- অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা: অনগ্রসর শ্রেণি, উপজাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা কবচ প্রদান করা।
- অখণ্ডতা ও বিশ্বশান্তি: ভারতের অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত শান্তি বজায় রাখতে অবদান রাখা।
উপসংহার :
এই সব উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দীর্ঘ ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক ভারতের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
---------✦✦✦---------
📌 এই প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে :
- ভারতীয় গণপরিষদ কবে কী উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়?
- কত সালে কীভাবে গণপরিষদ গড়ে ওঠে।
- গণপরিষদের গঠন ও লক্ষ্য সংক্ষেপে লেখো।
- ক্যাবিনেট মিশনের সঙ্গে গণপরিষদের সম্পর্ক কীরকম? কী লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে।
- গণপরিষদের প্রথম স্থায়ী সভাপতি কে ছিলেন? গণপরিষদের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
- গণপরিষদের গঠন ও লক্ষ্য বর্ননা করো।
📌 পঞ্চম ইউনিটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :
- ভারতের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারির গুরুত্ব কী?
- সংবিধানের প্রস্তাবনা বলতে কী বোঝো? প্রস্তাবনার মূল কথা উল্লেখ কী?
- ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝো?
- পঞ্চশীল নীতি বলতে কী বোঝো? এর মূলনীতি কী ছিল?
- ভেলগ্রেট সম্মেলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন