সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উৎপত্তির কারণ

জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উৎপত্তির কারণ (The reasons for the emergence of extremists in the Indian National Congress.)

জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উৎপত্তির কারণ - দ্বাদশ শ্রেণি ইতিহাস। Causes of the rise of extremists in Indian National Congress - Class 12 History
ভারতে জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থী আন্দোলনের উত্থানের পটভূমি ও কারণসমূহ।

ভূমিকা : চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ

ঊনবিংশ শতকের শেষ দশক (১৮৯০) থেকে জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতৃবৃন্দের দুর্বলতা এবং সেই সূত্রে তাদের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে ওঠে তাদের এই দুর্বল নীতির (আবেদন নিবেদন নীতির) বিরুদ্ধে  কিছু নেতা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। এরই প্রেক্ষাপটে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এক ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব গড়ে ওঠে, যা ‘চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ’ নামে পরিচিত। চরমপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী এই সমস্ত নেতা ও তাদের সমর্থকরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘চরমপন্থী’ নামে পরিচিত।

চরমপন্থী মতবাদের উত্থানের পটভূমি :

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়ে। ১৯০৭ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনে তা চরম আকার ধারণ করে। এবং কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

১) নরমপন্থীদের দুর্বলতা :

ড. অমলেশ ত্রিপাঠি, ড. বিপানচন্দ্র প্রমুখ ঐতিহাসিকদের মতে নরমপন্থী আন্দোলনের দুর্বলতা থেকেই চরমপন্থার উদ্ভব হয়। এই পর্বে লর্ড কার্জন কংগ্রেসকে ‘অসুস্থ প্রতিষ্ঠান’ বলে উপহাস করতেন।
  1. কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতাদের প্রধান দুর্বলতা হল তারা দাবি-দাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে আবেদন নিবেদনের নীতিতে এবং সরকারের সদিচ্ছায় বিশ্বাসী ছিলেন।
  2. নরমপন্থী নেতাদের পরিচালিত জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোন সম্পর্ক ছিল না। 
  3. তাদের লক্ষ্য ছিল ইংরেজ শাসনের অধীনে থেকে কিছু সুযোগ সুবিধা আদায় করে নেওয়া।
  4. নরমপন্থী নেতাদের মধ্যে সক্রিয় গণআন্দোলনের প্রতি প্রগাঢ় অনীহা ছিল যা, শিক্ষিত তরুণরা মানতে পারেনি। 

২) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও তার প্রভাব :

 ঐতিহাসিকগণ চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের উন্মেষের পিছনে কোন রাজনৈতিক আদর্শ নয়, কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দই মূল কারণ ছিল বলে মনে করেন।

৩) লর্ড কার্জনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি:

ক্যালকাটা কর্পোরেশন আইন (১৮৯৯), ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন (১৯০৪), অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন প্রভৃতি ভারতীয়দের ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়। এই নিপীড়নমূলক আইন ভারতীয়দের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

৪) বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫):

১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করে। এই ঘটনা সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন চরমপন্থীদের প্রধান কর্মসূচি হয়ে ওঠে।

৫) ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক শোষণ:

দাদাভাই নওরোজির ‘ড্রেন তত্ত্ব’ অনুযায়ী ব্রিটেন ভারতের সম্পদ শোষণ করছিল। শিল্প ধ্বংস, কৃষকের দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির জন্য ব্রিটিশ শাসনকে দায়ী করা হয়। এই অর্থনৈতিক দুর্দশা চরমপন্থী চেতনার জন্ম দেয়। ঐতিহাসিক রজনীপাম দত্তের মতে, ১৮৫১ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত মোট ২৪টি দুর্ভিক্ষ হয়, যার জন্য মূলত ব্রিটিশরা দায়ী

৬) শিক্ষিত তরুণদের হতাশা:

পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয়রা প্রশাসনে উচ্চপদে চাকরি পেত নাবর্ণবৈষম্য, বেকারত্বদারিদ্র্যের কারণে তারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং চরমপন্থায় আকৃষ্ট হয়।

৭) আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রভাব:

১৮৯৬ সালে ইতালির কাছে আবিসিনিয়ার জয়, ১৯০৫ সালে জাপানের কাছে রাশিয়ার পরাজয়, বুয়র যুদ্ধে ব্রিটেনের পরাজয় (১৮৯৬), আয়ারল্যান্ডতুরস্কের সংগ্রাম—এইসব ঘটনার ফলে ভারতীয়দের মনে এই বিশ্বাস জন্ম নেয় যে এশিয়ার দুর্বল জাতিও সংগঠিত হলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে পরাজিত করতে পারে।

৮) সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পুনর্জাগরণ:

স্বামী বিবেকানন্দের স্বদেশ প্রীতি ও ক্লীবতা বর্জনের আহ্বান, অরবিন্দ ঘোষের গীতার নিষ্কাম কর্মের সরল ব্যাখ্যা, তিলকের গণেশ উৎসব ও শিবাজি উৎসব, গীতার কর্মযোগ আদর্শ—এসব বিষয়গুলো ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় গৌরব ও আত্মমর্যাদা জাগ্রত করে। এই পুনর্জাগরণ চরমপন্থী আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে।

৯) বলিষ্ঠ নেতৃত্বের আবির্ভাব:

এইভাবে বাল গঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায়, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখ প্রথম সারির নেতা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নরমপন্থার বিরোধিতা করে আপসহীন সংগ্রামের ডাক দেন। ১৯০৭ সালের সুরাট অধিবেশনে মতবিরোধ চরমে পৌঁছালে কংগ্রেস নরমপন্থী ও চরমপন্থী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

উপসংহার:

সুতরাং বলা যায়, ঔপনিবেশিক শোষণ, নরমপন্থী নীতির ব্যর্থতা এবং জাতীয় জাগরণের প্রভাবে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চরমপন্থীদের উদ্ভব ঘটে। তাঁদের আত্মনির্ভরশীল ও সংগ্রামী কর্মসূচি পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে :

  1. জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উত্থানের পটভূমি আলোচনা করো।
  2. কোন পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থীদের উত্থান ঘটে?
  3. কোন কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে উগ্রজাতীয়তাবাদের জন্ম হয়?
  4. জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে কেন চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ জন্ম নেয়?

ইউনিট ৪-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :

  1. স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
  2. জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কী ছিল?
  3. নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।
  4. ‘ড্রেন অফ ওয়েলথ’ তত্ত্ব কী?
  5. জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার কারণ বিশ্লেষণ করো

মন্তব্যসমূহ

OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)
OUR BOOKS fOR WBBSE & WBCHSE


বাংলা বই ★ দ্বাদশ শ্রেণি
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার 👆আদর্শ প্রশ্নোত্তরের একমাত্র পোর্টাল

জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরগুলি দেখুন

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তগুলি (বৈশিষ্ঠ্য) উল্লেখ কর। ভারতের আর্থ-সামাজিক ইতিহাসে এই ভূমি-ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা কর।

অথবা , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি ব্যাখ্যা কর । এপ্রসঙ্গে ভারতের কৃষক সমাজের ওপর এই বন্দোবস্ত কীরূপ প্রভাব ফেলেছিল বর্ননা কর । উত্তর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হল এক ধরণের ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা ।   ১৭৯৩ সালে  লর্ড কর্ণওয়ালিস বাংলা , বিহার ও উড়িষ্যায় এই ভূমি-ব্যবস্থা চালু করেন । পরবর্তীকালে বারাণসী , উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও মাদ্রাস প্রেসিডেন্সির কোনো কোনো অঞ্চলে  এই ব্যবস্থা  চালু করা হয় । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি । কোম্পানির কর্মচারী ও ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার ডাও ১৭৭২ সালে  প্রথম  চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কথা বলেন । এরপর হেনরি পাত্তুলো , ড্যাক্রিস , টমাস ল প্রমুখ এই বন্দোবস্তের সপক্ষে যুক্তি দেখান । ১৭৮৬ সালে কর্ণওয়ালিশ গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন ।  তিন বছর ধরে  তিনি  বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যপক অনুসন্ধান চালান ।  এরপর ১৭৯০ সালে দেশীয় জমিদারদের সঙ্গে দশ বছরের জন্য একটি বন্দোবস্ত করেন, যা ‘ দশসালা বন্দোবস্ত ’ নামে পরিচিত । সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন , ইংল্যান্ডের কর্তপক্ষ অনুমোদন করলে এই...

জাদুঘর কাকে বলে? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা , জাদুঘর কী ? জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি বর্ননা কর । অথবা , জাদুঘর বলতে কী বোঝ ? আধুনিক ইতিহাস রচনায় জাদুঘরের গুরুত্ব লেখ । উঃ জাদুঘরের সংজ্ঞা বাংলা ‘ জাদুঘর ’ শব্দটির ইংরাজি প্রতিশব্দ হল মিউজিয়াম ( Museum) । ‘ মিউজিয়াম ’ শব্দটির মূল উৎস হল প্রাচীন গ্রীক শব্দ Mouseion ( মউসিয়ান) , যার অর্থ হল গ্রীক পুরাণের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউসদের মন্দির । এই ধরণের মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে প্রাচীন গ্রিসে পাঠাগার , প্রাচীন শিল্পকলা প্রভৃতির সংগ্রহশালা গড়ে উঠত । ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম -এর মতে, জাদুঘর হল একটি অলাভজনক, জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত এবং স্থায়ী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষালাভ, জ্ঞানচর্চা ও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে মানব ঐতিহ্যের স্পর্শযোগ্য ও স্পর্শ-অযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে, প্রদর্শন করে এবং সেগুলি নিয়ে গবেষণা করে। উদাহরণ – ব্রিটিশ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলা, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের নিদর্শন। এখানে পৃথক পৃথক ঘরে পৃথক পৃথক বিষয়ের নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। জাদুঘরের উদ্দেশ্য , ক...

ঠান্ডা লড়াই কী? ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি আলোচনা করো।

ঠান্ডা লড়াই কী : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের (১৯৪৫) পর পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ পরস্পর দুটি রাষ্ট্রজোটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। একটি আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট অন্যটি সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট। এই দুই রাষ্ট্রজোট কোন প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না করেও দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধের আবহ বা ছায়াযুদ্ধ চালাতে থাকে। এই ছায়াযুদ্ধই ইতিহাসে 'ঠান্ডা লড়াই' নাম পরিচিত। মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ( Walter Lippmaan ) ১৯৪৭ সালে তাঁর The Cold War গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। ঠান্ডা লড়াইয়ের বৈশিষ্ঠ্য : 'ঠান্ডা লড়াই কী' এই অংশের জন্য ৩/৪ (তিন বা চার ) নম্বর (মার্কস) থাকলে অথবা বৈশিষ্ঠ্য লিখতে বললে  এখানে ক্লিক কর এবং যে অংশ বের হবে তা এই পয়েন্টের নিচে জুড়ে দাও। ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি : ঠান্ডা লড়াই-এর পিছনে শুধুমাত্র আদর্শগত বা অর্থনৈতিক কারণ বা ভিত্তি কাজ করেছিল এমন নয়। এর পিছনে আরও কিছু বিষয় তথা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী কার্যকর ছিল। সমগ্র কারণকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সাম্যবাদের বিরোধিতা : রাশিয়...

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল বর্ননা কর।

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৬ সালে নবাব আলীবর্দি মারা যান । এরপর তাঁর পৌত্র সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার সিংহাসন আরোহন করেন । সিংহাসন আরোহনের কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজদের সাথে তাঁর বিরোধ বাঁধে , যার চূড়ান্ত পরিনতি হল ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ ।   এই যুদ্ধের পটভূমি বিশ্লেষণ করলেই সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি পরিষ্কার হয়ে ওঠে । সেই সঙ্গে এটাও বোঝা যাবে এই বিরোধে সিরাজেরে ‘ অহমিকাবোধ ’ ও ‘ অর্থলোভ ’ দায়ী ছিল কিনা । পলাশীর মূল ষড়যন্ত্র :👉  তথ্য তালাশে পলাশির যুদ্ধের পটভূমি / কারণ সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি হল –   আনুগত্যদানে বিলম্ব। সিরাজ বাংলার সিংহাসনে বসলে প্রথা অনুযায়ী নবাবের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ফরাসি, ওলন্দাজ প্রভৃতি কোম্পানিগুলি উপঢৌকন পাঠালেও ইংরেজরা ইচ্ছা করে উপঢৌকন পাঠাতে দেরি করে। এতে সিরাজ অপমানিত হন।   ষড়যন্ত্রের সংবাদ। সিংহাসনে বসার সময় থেকে ঘষেটি বেগম, সৌকত জঙ্গ ও কয়েকজন রাজকর্মচারি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিলেন। খবর আসে যে, এই ষড়যন্ত্রে ইংরেজরা যুক্ত আছে এবং তাঁকে সরিয়ে অনুগত কাউকে সিংহাসনে বসানোর চক্...

তিন আইন কী?

তিন আইন কী? ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলে ১৮৭২ সালে ব্রিটিশ সরকার বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক কুসংস্কারগুলি নিষিদ্ধ করে এবং বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়। যে আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার এই ঘোষণা জারি করে তাকে ' তিন আইন ' বলে।

বাংলার সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, বাংলার সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর। অথবা, ঊনবিংশ শতকে নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ কর। অথবা, উনিশ শতকের নবজাগরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা কি ছিল? এ প্রসঙ্গে নারীজাতির উন্নয়নে তাঁর অবদান ব্যাখ্যা কর।  বিদ্যাসাগর ও সংস্কার আন্দোলন : ঊনবিংশ শতকে ভারতে যে কজন সংস্কারকের জন্ম হয়েছিল তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন বঙ্গীয় নবজাগরণের মূর্ত প্রতীক। তাঁর মধ্যে ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রবল যুক্তিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগাঢ় মানবতাবাদ, এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। মাইকেল মধুসূদনের মতে, ' যাঁর মনীষা প্রাচীন ঋষিদের মতো, কর্মদক্ষতা ইংরেজদের মত এবং হৃদয়বত্তা বাঙালি জননীর মত। ' বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টা : বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। এক . শিক্ষা সংস্কার, দুই . সমাজ সংস্কার। তবে তাঁর এই দুই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে ছিল নারীশিক্ষা ও ...

'মুক্তদ্বার নীতি' (Open Door Policy) কী?

চিনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপনিবেশিক আধিপত্য স্থাপনের ফলে আমেরিকা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা ভাবতে শুরু করে এর ফলে চিনে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থি...

চিনের ৪ ঠা মে আন্দোলনের কারণ বিশ্লেষণ কর। এই আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা কর। (২০১৬)

অথবা, বিংশ শতকে চিনে ৪ ঠা মে-র আন্দোলনের উত্থান ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। চিনের সেই সময়কার দুটি উল্লেখযোগ্য সংবাদপত্রের নাম লেখো। অথবা, চিনের ৪ ঠা মের আন্দোলনের পটভূমি আলোচনা কর। এই আন্দোলনের ফলাফল বা তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।  ৪ ঠা মে-র আন্দোলন : ১৯১৪  সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জাপান চিনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধে চীন মিত্রপক্ষে যোগ দিলেও যুদ্ধের পর তারা কোনো সুবিচার পায় নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে চিনা জাতীয়তাবাদী জনগণ চেন-তু-শিউ এর নেতৃত্বে  ১৯১৯ সালে ৪ ঠা মে পিকিং-এর তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ার -এ  এক আন্দোলনের ডাক দেয়। এই আন্দোলন চিনের ইতিহাসে ৪ ঠা মে-র আন্দোলন নামে পরিচিত। আন্দোলনের কারণ ( পটভূমি ) : এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে এর কারণগুলি অনুধাবন করা যায়। ইউয়ান-সি-কাই এর নৃশংসতা : ১৯১১ সালে বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতি সান-ইয়াত-সেন দেশের গৃহযুদ্ধ এড়াতে ইউয়ান-সি-কাই  - এর অনুকূলে স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর  ইউয়ান-সি-কাই  সমস্ত সাংবিধানিক পদ্ধতি বাতিল করে সামরিক একনায়কতন...

মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল?

কোন পরিস্থিতিতে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) শুরু হয়? এই মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন শ্রমিক নেতার নাম লেখো। এই মামলার ফলাফল কী হয়েছিল? অথবা, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল? অথবা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির অবদানের একটি উদাহরণ দাও। এপ্রসঙ্গে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। এই মামলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। উত্তর : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা : ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কমিউনিস্টদের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে ব্রিটিশ সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এইরূপ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছিল। মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) হল এরকমই এক দমননীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মামলার প্রেক্ষাপট : ১) শ্রমিক-মালিক বিরোধ । ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ভারতে শিল্পায়ন শুরু হলে শ্রমিক শ্রেণির উদ্ভব হয়। বিংশ শতকের প্রথম দিকে মালিক শ্রেণির শোষণ ও অত্যাচারে শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রমিক শ্রেণির অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিস্টরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করে তুলে ব্রিটিশ সরকার চিন্তায় পড়ে যা...

সার্ক (SAARC) কী?

সার্ক হল দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। এর পুরো নাম 'দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা'  ( South Asian Association for Regional Co-operation) । ১৯৭৯ সালে এই সংস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেন স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অবশেষে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মোট ৭টি দেশ নিয়ে এই সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি হল ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।  -----------x---------- অষ্টম অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বিভাগের আরও প্রশ্ন  ১)  অব-উপনিবেশবাদ কী?   ২)  অব-উপনিবেশিকরণ শব্দটি কে কবে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৩)  নয়া-উপনিবেশবাদ কী?  ৪)  তৃতীয় বিশ্ব কী?   ৫)  'তৃতীয় বিশ্ব' কথাটি কবে, কোথায়, কে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৬)  কোন দেশকে কেন্দ্র করে আফ্রিকা ঠান্ডা যুদ্ধের আবর্তে জড়িয়ে পড়ে?  ৭)  আলজেরিয়া কবে কার শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে?   ৮)  বেন বেল্লা কে ছিলেন?  ৯)  'ত্রিপোলি কর্মসূচি' কী?  ১০)  HIT AND R...