সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভারত সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির তাৎপর্য

ভারত সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো

১৯৭১ সালের ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তির তাৎপর্য নিয়ে একটি ব্লগ ব্যানার। এতে ইন্দিরা গান্ধী ও লিওনিড ব্রেজনেভের ছবি, ভারতের মৈত্রী হ্যান্ডশেক, এবং ভারত, বাংলাদেশ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মানচিত্রের উপর শিল্প, নিরাপত্তা এবং নৌবাহিনীর প্রতীক দেখানো হয়েছে। A blog banner illustration on the significance of the 1971 Indo-Soviet Treaty. It features portraits of Indira Gandhi and Leonid Brezhnev, hands shaking with flags, and illustrative elements for economic expansion (industry and a map with Bangladesh), security (a naval ship and a missile), and diplomatic effects in South Asia.
১৯৭১ সালের ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ। এই চুক্তি তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছিল।
১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদি ‘ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’ ছিল স্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। 

📗 ভারত-সোভিয়েত চুক্তির তাৎপর্য

তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:

১. নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা:

আলোচ্য সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি অক্ষ গড়ে উঠেছিল। এই অবস্থায় এই চুক্তিটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করে। চুক্তির নবম ধারা (Clause 9) অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে উভয় দেশ সামরিক আলোচনা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি দেয়।

২. কূটনৈতিক ভারসাম্য :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চিন-পাকিস্তানের গড়ে ওঠা অক্ষের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা হয়। ফলে স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় হয়

৩. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য:

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বঙ্গোপসাগরে তাদের ‘সপ্তম নৌবহর’ (7th Fleet) পাঠায়। এর জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়নও বঙ্গোপসাগরে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন ও নৌবহর মোতায়েন করে ভারতের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়া সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে (রাষ্ট্রসঙ্ঘ) বারবার ‘ভিটো’ (Veto) প্রয়োগ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে রক্ষা করেছিল।

৪. অর্থনৈতিক ও কারিগরি প্রসার:

এই চুক্তি ভারত-সোভিয়েত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ভারতের ভারী শিল্প (যেমন ভিলই ও বোকারো ইস্পাত কারখানা), শক্তি খাত ও প্রযুক্তিগত বিকাশে সোভিয়েত সহায়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ‘রুপি-রুবেল’ বাণিজ্য ব্যবস্থার ফলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পায়।

🔰 সমালোচনা :

যদিও, অনেক সমালোচক মনে করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত তার প্রথাগত ‘জোটনিরপেক্ষ নীতি’ (Non-Alignment Movement) থেকে কিছুটা সরে এসেছিল। তবে ভারতের মতে, এটি কোনো আগ্রাসী সামরিক জোট ছিল না; বরং জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার একটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল।

⏩ উপসংহার :

সংক্ষেপে, ১৯৭১ সালের এই চুক্তিটি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছিল।
---------✦✦✦---------

📌 এই প্রশ্নটিই অন্য যেভাবে আসতে পারে :

  1. ভারত সোভিয়েত চুক্তি ১৯৭১ এর গুরুত্ব কী?
  2. ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় ভারত সোভিয়েত চুক্তির অবদান কতটুকু।
  3. ‘ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব আলোচনা করো।
  4. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

📌 ইউনিট ৬ | অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর :

  1. ১৯৭১ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুক্তিবাহিনীর গঠন ও তার ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
  2. অপারেশন সার্চলাইট কী? এর ফলাফল কী হয়েছিল? 
  3. বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র আন্দোলনে ভারতের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
  4. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কেন হয়েছিল? কারণ ও গুরুত্ব
  5. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কী লাভ হয়েছিল?
  6. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সূচনা ও তার ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
  7. ভারত সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  8. বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন কীভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছিল ব্যাখ্যা করো।
  9. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারণ আলোচনা করো।
  10. অপারেশন পাইথন (Operation Python) কী? কারণ, ঘটনাবলী ও গুরুত্ব।
  11. অপারেশন ট্রাইডেন্ট কী? ইতিহাস, কারণ ও গুরুত্ব।

মন্তব্যসমূহ



বাংলা বই ★ দ্বাদশ শ্রেণি
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার 👆আদর্শ প্রশ্নোত্তরের একমাত্র পোর্টাল
OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)
আমাদের আরও কিছু বাংলা বই ( WBBSE & WBCHSE)

জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরগুলি দেখুন

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তগুলি (বৈশিষ্ঠ্য) উল্লেখ কর। ভারতের আর্থ-সামাজিক ইতিহাসে এই ভূমি-ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা কর।

অথবা , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি ব্যাখ্যা কর । এপ্রসঙ্গে ভারতের কৃষক সমাজের ওপর এই বন্দোবস্ত কীরূপ প্রভাব ফেলেছিল বর্ননা কর । উত্তর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হল এক ধরণের ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা ।   ১৭৯৩ সালে  লর্ড কর্ণওয়ালিস বাংলা , বিহার ও উড়িষ্যায় এই ভূমি-ব্যবস্থা চালু করেন । পরবর্তীকালে বারাণসী , উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও মাদ্রাস প্রেসিডেন্সির কোনো কোনো অঞ্চলে  এই ব্যবস্থা  চালু করা হয় । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি । কোম্পানির কর্মচারী ও ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার ডাও ১৭৭২ সালে  প্রথম  চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কথা বলেন । এরপর হেনরি পাত্তুলো , ড্যাক্রিস , টমাস ল প্রমুখ এই বন্দোবস্তের সপক্ষে যুক্তি দেখান । ১৭৮৬ সালে কর্ণওয়ালিশ গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন ।  তিন বছর ধরে  তিনি  বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যপক অনুসন্ধান চালান ।  এরপর ১৭৯০ সালে দেশীয় জমিদারদের সঙ্গে দশ বছরের জন্য একটি বন্দোবস্ত করেন, যা ‘ দশসালা বন্দোবস্ত ’ নামে পরিচিত । সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন , ইংল্যান্ডের কর্তপক্ষ অনুমোদন করলে এই...

জাদুঘর কাকে বলে? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা , জাদুঘর কী ? জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি বর্ননা কর । অথবা , জাদুঘর বলতে কী বোঝ ? আধুনিক ইতিহাস রচনায় জাদুঘরের গুরুত্ব লেখ । উঃ জাদুঘরের সংজ্ঞা বাংলা ‘ জাদুঘর ’ শব্দটির ইংরাজি প্রতিশব্দ হল মিউজিয়াম ( Museum) । ‘ মিউজিয়াম ’ শব্দটির মূল উৎস হল প্রাচীন গ্রীক শব্দ Mouseion ( মউসিয়ান) , যার অর্থ হল গ্রীক পুরাণের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউসদের মন্দির । এই ধরণের মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে প্রাচীন গ্রিসে পাঠাগার , প্রাচীন শিল্পকলা প্রভৃতির সংগ্রহশালা গড়ে উঠত । ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম -এর মতে, জাদুঘর হল একটি অলাভজনক, জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত এবং স্থায়ী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষালাভ, জ্ঞানচর্চা ও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে মানব ঐতিহ্যের স্পর্শযোগ্য ও স্পর্শ-অযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে, প্রদর্শন করে এবং সেগুলি নিয়ে গবেষণা করে। উদাহরণ – ব্রিটিশ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলা, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের নিদর্শন। এখানে পৃথক পৃথক ঘরে পৃথক পৃথক বিষয়ের নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। জাদুঘরের উদ্দেশ্য , ক...

ঠান্ডা লড়াই কী? ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি আলোচনা করো।

ঠান্ডা লড়াই কী : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের (১৯৪৫) পর পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ পরস্পর দুটি রাষ্ট্রজোটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। একটি আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট অন্যটি সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট। এই দুই রাষ্ট্রজোট কোন প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না করেও দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধের আবহ বা ছায়াযুদ্ধ চালাতে থাকে। এই ছায়াযুদ্ধই ইতিহাসে 'ঠান্ডা লড়াই' নাম পরিচিত। মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ( Walter Lippmaan ) ১৯৪৭ সালে তাঁর The Cold War গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। ঠান্ডা লড়াইয়ের বৈশিষ্ঠ্য : 'ঠান্ডা লড়াই কী' এই অংশের জন্য ৩/৪ (তিন বা চার ) নম্বর (মার্কস) থাকলে অথবা বৈশিষ্ঠ্য লিখতে বললে  এখানে ক্লিক কর এবং যে অংশ বের হবে তা এই পয়েন্টের নিচে জুড়ে দাও। ঠান্ডা লড়াইয়ের পটভূমি : ঠান্ডা লড়াই-এর পিছনে শুধুমাত্র আদর্শগত বা অর্থনৈতিক কারণ বা ভিত্তি কাজ করেছিল এমন নয়। এর পিছনে আরও কিছু বিষয় তথা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী কার্যকর ছিল। সমগ্র কারণকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সাম্যবাদের বিরোধিতা : রাশিয়...

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল বর্ননা কর।

পলাশির যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৬ সালে নবাব আলীবর্দি মারা যান । এরপর তাঁর পৌত্র সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার সিংহাসন আরোহন করেন । সিংহাসন আরোহনের কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজদের সাথে তাঁর বিরোধ বাঁধে , যার চূড়ান্ত পরিনতি হল ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ ।   এই যুদ্ধের পটভূমি বিশ্লেষণ করলেই সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি পরিষ্কার হয়ে ওঠে । সেই সঙ্গে এটাও বোঝা যাবে এই বিরোধে সিরাজেরে ‘ অহমিকাবোধ ’ ও ‘ অর্থলোভ ’ দায়ী ছিল কিনা । পলাশীর মূল ষড়যন্ত্র :👉  তথ্য তালাশে পলাশির যুদ্ধের পটভূমি / কারণ সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলি হল –   আনুগত্যদানে বিলম্ব। সিরাজ বাংলার সিংহাসনে বসলে প্রথা অনুযায়ী নবাবের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ফরাসি, ওলন্দাজ প্রভৃতি কোম্পানিগুলি উপঢৌকন পাঠালেও ইংরেজরা ইচ্ছা করে উপঢৌকন পাঠাতে দেরি করে। এতে সিরাজ অপমানিত হন।   ষড়যন্ত্রের সংবাদ। সিংহাসনে বসার সময় থেকে ঘষেটি বেগম, সৌকত জঙ্গ ও কয়েকজন রাজকর্মচারি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিলেন। খবর আসে যে, এই ষড়যন্ত্রে ইংরেজরা যুক্ত আছে এবং তাঁকে সরিয়ে অনুগত কাউকে সিংহাসনে বসানোর চক্...

তিন আইন কী?

তিন আইন কী? ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলে ১৮৭২ সালে ব্রিটিশ সরকার বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক কুসংস্কারগুলি নিষিদ্ধ করে এবং বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়। যে আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার এই ঘোষণা জারি করে তাকে ' তিন আইন ' বলে।

বাংলার সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, বাংলার সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর। অথবা, ঊনবিংশ শতকে নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ কর। অথবা, উনিশ শতকের নবজাগরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা কি ছিল? এ প্রসঙ্গে নারীজাতির উন্নয়নে তাঁর অবদান ব্যাখ্যা কর।  বিদ্যাসাগর ও সংস্কার আন্দোলন : ঊনবিংশ শতকে ভারতে যে কজন সংস্কারকের জন্ম হয়েছিল তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন বঙ্গীয় নবজাগরণের মূর্ত প্রতীক। তাঁর মধ্যে ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রবল যুক্তিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগাঢ় মানবতাবাদ, এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। মাইকেল মধুসূদনের মতে, ' যাঁর মনীষা প্রাচীন ঋষিদের মতো, কর্মদক্ষতা ইংরেজদের মত এবং হৃদয়বত্তা বাঙালি জননীর মত। ' বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টা : বিদ্যাসাগরের সংস্কার প্রচেষ্টাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। এক . শিক্ষা সংস্কার, দুই . সমাজ সংস্কার। তবে তাঁর এই দুই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে ছিল নারীশিক্ষা ও ...

'মুক্তদ্বার নীতি' (Open Door Policy) কী?

চিনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপনিবেশিক আধিপত্য স্থাপনের ফলে আমেরিকা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা ভাবতে শুরু করে এর ফলে চিনে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থি...

চিনের ৪ ঠা মে আন্দোলনের কারণ বিশ্লেষণ কর। এই আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা কর। (২০১৬)

অথবা, বিংশ শতকে চিনে ৪ ঠা মে-র আন্দোলনের উত্থান ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। চিনের সেই সময়কার দুটি উল্লেখযোগ্য সংবাদপত্রের নাম লেখো। অথবা, চিনের ৪ ঠা মের আন্দোলনের পটভূমি আলোচনা কর। এই আন্দোলনের ফলাফল বা তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।  ৪ ঠা মে-র আন্দোলন : ১৯১৪  সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জাপান চিনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধে চীন মিত্রপক্ষে যোগ দিলেও যুদ্ধের পর তারা কোনো সুবিচার পায় নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে চিনা জাতীয়তাবাদী জনগণ চেন-তু-শিউ এর নেতৃত্বে  ১৯১৯ সালে ৪ ঠা মে পিকিং-এর তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ার -এ  এক আন্দোলনের ডাক দেয়। এই আন্দোলন চিনের ইতিহাসে ৪ ঠা মে-র আন্দোলন নামে পরিচিত। আন্দোলনের কারণ ( পটভূমি ) : এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে এর কারণগুলি অনুধাবন করা যায়। ইউয়ান-সি-কাই এর নৃশংসতা : ১৯১১ সালে বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতি সান-ইয়াত-সেন দেশের গৃহযুদ্ধ এড়াতে ইউয়ান-সি-কাই  - এর অনুকূলে স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর  ইউয়ান-সি-কাই  সমস্ত সাংবিধানিক পদ্ধতি বাতিল করে সামরিক একনায়কতন...

মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল?

কোন পরিস্থিতিতে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) শুরু হয়? এই মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন শ্রমিক নেতার নাম লেখো। এই মামলার ফলাফল কী হয়েছিল? অথবা, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এই প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই মামলার পরিণতি কী হয়েছিল? অথবা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির অবদানের একটি উদাহরণ দাও। এপ্রসঙ্গে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। এই মামলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। উত্তর : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা : ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কমিউনিস্টদের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে ব্রিটিশ সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এইরূপ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছিল। মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) হল এরকমই এক দমননীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মামলার প্রেক্ষাপট : ১) শ্রমিক-মালিক বিরোধ । ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ভারতে শিল্পায়ন শুরু হলে শ্রমিক শ্রেণির উদ্ভব হয়। বিংশ শতকের প্রথম দিকে মালিক শ্রেণির শোষণ ও অত্যাচারে শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রমিক শ্রেণির অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিস্টরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করে তুলে ব্রিটিশ সরকার চিন্তায় পড়ে যা...

সার্ক (SAARC) কী?

সার্ক হল দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। এর পুরো নাম 'দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা'  ( South Asian Association for Regional Co-operation) । ১৯৭৯ সালে এই সংস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেন স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অবশেষে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মোট ৭টি দেশ নিয়ে এই সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি হল ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।  -----------x---------- অষ্টম অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বিভাগের আরও প্রশ্ন  ১)  অব-উপনিবেশবাদ কী?   ২)  অব-উপনিবেশিকরণ শব্দটি কে কবে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৩)  নয়া-উপনিবেশবাদ কী?  ৪)  তৃতীয় বিশ্ব কী?   ৫)  'তৃতীয় বিশ্ব' কথাটি কবে, কোথায়, কে প্রথম ব্যবহার করেন?  ৬)  কোন দেশকে কেন্দ্র করে আফ্রিকা ঠান্ডা যুদ্ধের আবর্তে জড়িয়ে পড়ে?  ৭)  আলজেরিয়া কবে কার শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে?   ৮)  বেন বেল্লা কে ছিলেন?  ৯)  'ত্রিপোলি কর্মসূচি' কী?  ১০)  HIT AND R...