স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ও গুরুত্ব আলোচনা কর।

স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রার সূচনা: প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা।
ভূমিকা
স্বাধীন ভারতের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ১৯৫১ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সূচনা হয়। নিচে প্রথম তিনটি পরিকল্পনার লক্ষ্য ও গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৫১ - ১৯৫৬)
মূল মডেল: হ্যারড-ডমার মডেল (Harrod-Domar Model)
প্রধান লক্ষ্য:
- দেশভাগের ফলে সৃষ্ট খাদ্যসংকট ও শরণার্থী পুনর্বাসন সমস্যার সমাধান করা।
- কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানো।
- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব আনা।
- গ্রামীণ উন্নয়ন ও সম্প্রদায় উন্নয়ন কর্মসূচি চালু।
গুরুত্ব ও অর্জন:
[১] কৃষি ও সেচ: ভাকরা-নাঙ্গাল, দামোদর উপত্যকা (DVC) এবং হীরাকুদের মতো বৃহৎ বহুমুখী নদী পরিকল্পনা চালু হয়।[২] সাফল্য: খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড বৃদ্ধি পায় (২৫%) এবং জাতীয় আয় প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পায় (লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাফল্য)। কৃষি ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ২.১% থাকলেও অর্জিত হয়েছিল প্রায় ৩.৬%।
দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৫৬ - ১৯৬১)
মূল মডেল: পিসি মহালানোভিশ মডেল (Mahalanobis Model)
প্রধান লক্ষ্য:
- দ্রুত শিল্পায়ন, বিশেষ করে ভারী ও মৌলিক শিল্পের (Heavy and Basic Industries) বিকাশ ঘটানো।
- কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। জাতীয় আয়ে ২৫% বৃদ্ধি করা।
- সরকারি খাতের (Public Sector) সম্প্রসারণ করে সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
গুরুত্ব ও অর্জন:
[১] শিল্প অবকাঠামো: ভিলই, রৌরকেল্লা এবং দুর্গাপুরে তিনটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এগুলোকে “আধুনিক ভারতের মন্দির” বলা হয়।[২] বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: পারমাণবিক শক্তি কমিশন গঠন এবং একাধিক আইআইটি (IIT) স্থাপিত হয়।
[৩] সাফল্য: ভারতের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ভিত মজবুত হলেও, কৃষিকে কিছুটা অবহেলা করার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেখা দেয়।
তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬১ - ১৯৬৬)
মূল লক্ষ্য:
‘স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি’ (Self-reliant and Self-generating Economy) গড়ে তোলা।
[২] অবকাঠামো: বোকারো ইস্পাত কারখানা স্থাপন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ে।
প্রধান লক্ষ্য:
- কৃষি ও শিল্প দুটি খাতকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া।
- খাদ্যশস্য উৎপাদনে দেশকে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী করা। ও রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
- জাতীয় আয়ে ৫.৬% প্রবৃদ্ধি অর্জন।
- আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা।
গুরুত্ব ও অর্জন:
[১] সংকট ও বাধা: ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৬৫-৬৬ সালের ভয়াবহ খরা এই পরিকল্পনার গতি থামিয়ে দেয়। জাতীয় আয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা ৫.৬ থাকলেও, হয় মাত্র ২.৮%[২] অবকাঠামো: বোকারো ইস্পাত কারখানা স্থাপন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ে।
[৩] সবুজ বিপ্লবের ভিত্তি: কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও সার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়, যা পরবর্তীকালে সবুজ বিপ্লবের পথ তৈরি করে। ভারতে সবুজ বিপ্লবের (Green Revolution) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
[৪] সাফল্য: একাধিক যুদ্ধ ও খরার কারণে পরিকল্পনাটি অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলেও, কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের পথ প্রশস্ত করে। ‘ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’ (FCI) ও ‘কৃষি মূল্য কমিশন’ (CACP) গঠন করা সম্ভব হয়।
[৪] সাফল্য: একাধিক যুদ্ধ ও খরার কারণে পরিকল্পনাটি অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলেও, কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের পথ প্রশস্ত করে। ‘ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’ (FCI) ও ‘কৃষি মূল্য কমিশন’ (CACP) গঠন করা সম্ভব হয়।
উপসংহার
স্বাধীনতার প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে প্রথম পরিকল্পনায় কৃষির সাফল্য, দ্বিতীয় পরিকল্পনায় শিল্পের শক্ত ভিত, এবং তৃতীয় পরিকল্পনায় সবুজ বিপ্লবের প্রাক-প্রস্তুতি স্বাধীন ভারতের পরবর্তী সমৃদ্ধির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।---------✦✦✦---------
📌 এই প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে :
- পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কীভাবে সবুজ বিপ্লবের ভিত তৈরি করে লেখো।
- প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কী ছিল? কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হয়?
- প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
- স্বাধীন ভারতের সমৃদ্ধির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ভূমিকা উল্লেখ করো।
- স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
📌 ইউনিট— ৫-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর :
- পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কী? ভারতের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণের কারণ কী ছিলো?
- স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ও গুরুত্ব আলোচনা কর।
- বান্দুং সম্মেলনের সাফল্য ও ব্যর্থতা আলোচনা করো।
- ভারতীয় সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো।
- ভারতের জোট নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের কারণ কী ছিলো?
- জোট নিরপেক্ষ নীতির সাফল্য ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করো।
- অর্থনৈতিক উদারীকরণ বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য গুলি সংক্ষেপে লেখো।
.png)
রাজ্যের নিয়ম তান্ত্রিক প্রধান কে
উত্তরমুছুনAnswer please
উত্তরমুছুনস্যার,উত্তর টা দেখতে পাচ্ছি না ।
উত্তরমুছুনWhere is answer?
উত্তরমুছুনGive me answer
উত্তরমুছুনভেরি নাইস
উত্তরমুছুনAii questions er answer kotai
উত্তরমুছুনAnswer koi
উত্তরমুছুন