সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

স্মৃতিকথা বলতে কী বোঝ? স্মৃতিকথার বৈশিষ্ট্য লেখ। স্মৃতিকথার কয়েকটি উদাহরণ দাও। ভারতের ইতিহাস রচনায় এর গুরুত্ব বর্ননা কর।

উত্তর : স্মৃতিকথা স্মৃতি বলতে মনে রাখা বিষয়কে বোঝায়, যার মধ্য দিয়ে নিকট অতীতকে স্মরণ করা যায়। কোনো কোনো ব্যক্তি তাঁর জীবনের ফেলে আসা সময়ের কোনো ঘটনার স্মৃতিচারণ বা প্রকাশ করে অতীতকে স্মরণ করে। এই অতীত স্মরণকেই বলা হয় স্মৃতিকথা। অন্যভাবে বলা যায় , স্মৃতিকথা হল এক ধরণের সাহিত্য , যেখানে লেখক তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বা প্রত্যক্ষ করা বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ স্মৃতি থেকে তুলে ধরেন । উদাহরণ – জ্যোতি বসুর লেখা “যতদূর মনে পড়ে” । ইংরেজ শাসন ও স্বাধীন ভারতের ইতিহাস জানতে সাহায্য করে । স্মৃতিকথার বৈশিষ্ট্য স্মৃতিকথার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল – 1)    স্মৃতিকথা হল ইতিহাসের একটি অন্যতম মৌখিক উপাদান । স্থানীয় ইতিহাস লেখায় এটি বিশেষ উপযোগী । 2)    স্মৃতিকথা কোন কাল্পনিক কাহিনি নয় । এর একটি বাস্তব ভিত্তি আছে । 3)    স্মৃতিকথায় লেখকের সারা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোচনা থাকে না । থাকে জীবনকালে ঘটে যাওয়া সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনার বিবরণ । যেমন , হিরন্ময় বন্দোপাধ্যায়ের “উদবাস্তু” । এখানে কেবল পশ্চিমবঙ্গের উদবাস্তুদের জীবন সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে । 4) ...

লোককথা ও পৌরাণিক কাহিনির মধ্যে পার্থক্য দেখাও

উঃ পৌরাণিক কাহিনি ও লোককথার মধ্যে কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় । যেমন – বিষয় পৌরাণিক কাহিনি / রূপকথা লোককথা / লোকগাথা প্রধান চরিত্র এখানে প্রধান চরিত্রগুলি অলৌকিক জগতের । ঈশ্বরই মূল নায়ক-নায়িকা লোককথায় মুখ্য চরিত্র সাধারণভাবে মানুষ হয় । ভিত্তি এই কাহিনিগুলি সাধারণত ধর্মভিত্তিক হয় । এখানে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর বিশেষ গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায় না । কালপঞ্জী পৌরাণিক কাহিনিগুলির একটি নিজস্ব কালপঞ্জি থাকে । লোককথার গল্পের স্থান-কাল-পাত্রের কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকে না । সহায়ক উপাদান পৌরাণিক কাহিনিগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়ক উপাদান হিসাবে উপমার ব্যপক ব্যবহার হয় । অন্যদিকে , কাহিনিকে আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য রূপকের মাধ্যমে দেবদেবী কিম্বা অপদেবতার সংগে মানব চরিত্রকে যুক্ত করা হয় । বিশ্বজনীনতা জে এফ বিয়ারলেইন দেখিয়েছেন যে , পৌরাণিক কাহিনিগুলিতে একধরণের বিশ্বজনীনতা রয়েছে । যেমন , বিশ্বের প্রায় সব জনগোষ্ঠির পৌরানি...

লোককথার গুরুত্ব / তাৎপর্য / ভুমিকা নির্নয় কর।

উঃ লোককথার কাহিনিগুলি ইতিহাস-নির্ভর না হলেও ইতিহাস জানার জন্য এর বিশেষ গুরুত্ব আছে । যেমন – 1)    সমাজ-সংস্কৃতির পরিচয় । অতীতকালের সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে মোটামুটি আভাস পাওয়া যায় । 2)    কোন কোন কাহিনি থেকে তৎকালীন সময়ের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে ধারণা করা যায় । যেমন , চাঁদ সদাগরের কাহিনি থেকে মধ্যযুগের বনিকদের দূরদেশে বানিজ্য করার কথা জানা যায় । 3)    বিনোদনের মাধ্যম । লোককাহিনিগুলি যুগ যুগ ধরে মানুষের আনন্দ-বিনোদনের কাজে লেগেছে । বর্তমান যুগেও এই কাহিনিগুলি সিনেমা , টিভি সিরিয়ালের মোড়কে একই কাজ করে চলেছে । যেমন , ‘ বেদের মেয়ে জোৎস্না ’, ‘ রূপবান কন্যা ’, ‘ সাত-ভাই-চম্পা ’ ইত্যাদি । 4)    শিশু-শিক্ষায় অবদান । এই কাহিনিগুলি শিশুশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ন প্রভাব ফেলে । নীতি-শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুমনের ওপর এই কাহিনিগুলি সহজে প্রভাব ফেলে । যেমন , ‘ আলীবাবা ও চল্লিশ চোর ’ চুরি করার বিরুদ্ধে নীতিশিক্ষা দেয় । 5)    লোকশিক্ষার মাধ্যম । লোকশিক্ষার মাধ্যম হিসাবে লোকগাথা বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে । এপ্...

লোককথার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।

উঃ লোককথার কয়েককটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল –              I.         শিশুদের জন্য রসদ । লোককথায় সাধারণত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য রসদ থাকে ।            II.         অজ্ঞাতপরিচয় লেখক । সাধারণভাবে এগুলির প্রকৃত রচয়িতাদের পরিচয় পাওয়া যায় না ।          III.         অলিখিত কাহিনি । লোককথার কাহিনিগুলি সাধারণভাবে অলিখিত হয় । বর্তমানে অবশ্য বিভিন্ন গবেষক এগুলি বই আকারে প্রকাশ করছেন ।         IV.         মানুষের আলোচনা । এই কাহিনিগুলিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখের বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায় ।           V.         ধর্মীয় বিষয় গুরুত্বহীন । তবে রুপকের মাধ্যমে দেবদেবী বা অপদেবতার...

লোককথা কী? বা লোকগাথা বলতে কি বোঝ?

উঃ কার্ল টমলিনসন ও ক্যারল লিঞ্চ-ব্রাউনের মতে, মানুষের জীবন ও কল্পনার সংমশ্রণে যেসব গল্পগাথা গড়ে উঠেছে তা-ই হল লোককথা বা লোকগাথা। এই লোককথাগুলিতে এমন সব জগতের কথা থাকে যেখানে প্রাকৃতিক আইন কার্যকর হয় না। প্রকৃতপক্ষে যুগ যুগ ধরে লোকমুখে প্রচারিত এই সকল কাহিনি সাধারণ মানুষকে আনন্দিত, বিস্মিত, ভীত, আবার কখনও কখনও নব প্রেরণায় উদবুদ্ধও করে। উদাহরণ – ১) সাত ভাই চম্পা, ২) আলীবাবা ও চল্লিশ চোর, ইত্যাদি।

পৌরাণিক কাহিনির বৈশিষ্ট্য লেখ।

পৌরাণিক কাহিনির বৈশিষ্ট্য উঃ পৌরাণিক কাহিনি বা রূপকথার কয়েকটি সার্বজনীন বৈশিষ্ট্য হল – I. এই কাহিনিগুলি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। বিয়ারলেইনের মতে, পৌরাণিক কাহিনি হল ‘আমাদের অবচেতন মনের কাহিনিবিশেষ যা সম্ভবত আমাদের জিন-এ লিপিবদ্ধ থাকে। II. এগুলি প্রাগৈতিহাসিক যুগের। মানব সভ্যতার উন্মেষের আগে অর্থাৎ যে সময়ের ইতিহাসের লিখিত উপাদান পাওয়া যায় না সেই সময়ে এই কাহিনিগুলির জন্ম। III. কাহিনিগুলির বিষয় হল অলৌকিক বা অতীন্দ্রিয় জগতের। তাই এখানে ঐশ্বরিক জগতের নানা কাল্পনিক ঘটনার কথা পাওয়া যায়। যেমন, বিশ্বসৃষ্টির রহস্য কিম্বা দেবদেবীর অলৌকিক ক্ষমতা ও কর্মকান্ড। IV. পৌরাণিক কাহিনিগুলি কোনো নির্দিষ্ট মানব সমাজ বা সম্প্রদায়ের পরিচয়ের মূলভিত্তি। এগুলি থেকে ঐ নির্দিষ্ট সমাজ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করা যায়। V. এই ধরণের রূপকথাগুলি সমাজের প্রচলিত ধর্ম ও বিধিনিয়োমগুলির স্বীকৃতি দেয়। ফলে মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ হয়। VI. পৌরাণিক কাহিনি বা রূপকথাগুলি হল একধরণের বিশ্বাস যা জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। তবে মনে রাখতে হবে, এই কাহিনিগুলি ইতিহাসের উপাদান হিস...

পৌরাণিক কাহিনি কী? অথবা রূপকথা কী? অথাবা মিথ কী?

উঃ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে জগৎ ও জীবনের রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা করেছে মানুষ । চিন্তাশক্তির দৈন্যতার কারণে প্রকৃত সত্যে তারা পৌঁছতে পারেনি । তাই জন্ম দিয়েছে নানান ধর্মীয় বা অলৌকিক কাহিনির । এই কাহিনিগুলিই বংশপরম্পরায় পৌঁছেছে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে । এগুলিই পৌরাণিক কাহিনি বা রূপকথা বা মিথ নামে পরিচিত । উদাহরণ – ভগবান ব্রহ্মার মানসকন্যা দেবী দুর্গা ব্রহ্মার নির্দেশে মর্ত্যে এসে অসুরদের পরাজিত করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার কাহিনি ।

উৎপত্তির বিচারে জনশ্রুতিগুলিকে কয়টি ধারায় ভাগ করা যায়?

উঃ উৎপত্তির দিক থেকে বিচার করলে জনশ্রুতিগুলিকে দুইটি ধারায় ভাগ করা যায়। উদাহরণ - ১) মানুষের দেখা ঘটনার বিবরণ। যেমন , নবাব সিরাজকে নিয়ে নানা কিংবদন্তি। ২) মানুষের না-দেখা ঘটনার বিবরণ। যেমন , কচ্ছপের পিঠে পৃথিবীর অবস্থান ও তার নড়ে ওঠার কারণে ভুমিকম্প হওয়ার কাহিনি। কিন্তু সাধারণভাবে জনশ্রুতিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয় – ১) পৌরাণিক কাহিনি ২) কিংবদন্তী ৩) লোককথা ৪) স্মৃতিকথা এবং ৫) মৌখিক ঐতিহ্য

জনশ্রুতি কী?

জনশ্রুতি হল এমন ঐতিহাসিক বিবরণ যা , ১) যথাযথ তথ্য ও সন-তারিখ দ্বারা যাচাই করা যায় না , ২) যেগুলি বংশপরম্পরায় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়। যেমন – কচ্ছপের পিঠে পৃথিবীর অবস্থান ও কচ্ছপের সামান্য নড়াচড়ার কারণে ভুমিকম্প হওয়ার কল্প - কাহিনি।

স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ও গুরুত্ব আলোচনা কর।

তেল কূটনীতি বলতে কী বোঝ? এই কূটনীতি কীভাবে উপসাগরীয় সংকট সৃষ্টি করে?

অথবা, তেল কূটনীতি কী? তেল কূটনীতি প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের জন্য কতখানি দায়ী ছিল? অথবা, উপসাগরীয় সংকট কী? এই সংকটের পটভূমি আলোচনা কর।  অথবা, তেল কূটনীতির প্রকৃতি ও বিশ্বরাজনীতিতে তার প্রভাব আলোচনা কর।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তেল সম্পদের সংকোচনে র ফলে আমেরিকার পরিবহন ও শিল্পক্ষেত্রে সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রাধান্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মার্কিন পদক্ষেপকে 'তেল কূটনীতি' (OIL DIPLOMACY) বলে। তেল কূটনীতির লক্ষ্য : আমেরিকা সহ অন্য ইউরোপীয় দেশগুলির তেল কূটনীতির লক্ষ্য ছিল মূলত তিনটি : ১) তেল-সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নিরঙ্কুশ নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা। ২) তেল কূটনীতি ও তেল-বাণিজ্য নিজ নিয়ন্ত্রণে রেখে সমগ্র বিশ্বরাজনীতিতে নিজের প্রাধান্য বজায় রাখা। ৩) তেল-বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত মুনাফার দ্বারা নিজের অর্থনীতিকে মজবুত করা। উপসাগরীয় সংকট : প্রকৃতপক্ষে তেল কূটনীতির সূচনা হয় বিশ শতকের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ তেলের ভান্ডার খুঁজে পাওয়ার পরপরই। প্রথমে ব্রিট...
OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)
OUR BOOKS fOR WBBSE & WBCHSE


বাংলা বই ★ দ্বাদশ শ্রেণি
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার 👆আদর্শ প্রশ্নোত্তরের একমাত্র পোর্টাল

জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরগুলি দেখুন